Hawkers

গড়িয়াহাট থেকে হাতিবাগান, ফুটপাত হকারদের দখলেই

রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পরে বিভিন্ন স্থানে বেআইনি দখলদারদের হটাতে বুলডোজ়ার-নীতি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। যদিও কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণের ফুটপাতে হকারদের জবরদখলের ছবিটার বদল হয়নি।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ০৬:৫৩
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

গড়িয়াহাটে ফুটপাতে হকারদের জন্য বরাদ্দ টিনের শেড। কিন্তু সেই শেডের বাইরে ঝুলছে বিক্রির সামগ্রী। হাতিবাগানে ফুটপাত তো বটেই, এমনকি রাস্তার একাংশ দখল করে হকারেরা ব্যবসা করছেন। ধর্মতলা, চাঁদনির ফুটপাতেও হকারদের দাপট বেড়েছে। নিয়ম মতো ফুটপাতের এক ভাগ হকারদের জন্য বরাদ্দ, বাকি তিন ভাগ পথচারীদের জন্য। কিন্তু সেই নিয়ম রয়েছে খাতায়-কলমেই! ফুটপাত রয়ে গিয়েছে সেই তিমিরেই।

রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পরে বিভিন্ন স্থানে বেআইনি দখলদারদের হটাতে বুলডোজ়ার-নীতি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। যদিও কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণের ফুটপাতে হকারদের জবরদখলের ছবিটার বদল হয়নি। পথচারীদের হাঁটাচলার জন্য ফুটপাতে জায়গা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে আসতে হয় তাঁদের। তাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। শহরের ফুটপাতে হকারদের দৌরাত্ম্য নিয়ে সরব হয়েছেন খোদ কলকাতা পুরসভার টাউন ভেন্ডিং কমিটির সদস্য তথা হকার সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দেবাশিস দাস। তাঁর সাফ কথা, ‘‘গড়িয়াহাট, ধর্মতলা, চাঁদনি, রাজাবাজার— শহরের সর্বত্র ফুটপাতে হকারদের দাপট গত ১৫ বছরে বেড়েছে। ফুটপাতের এক ভাগ হকার, বাকি দু’ভাগ পথচারীদের— এ নিয়ম খাতায়-কলমেই আছে। বরং ফুটপাতে জবরদখল বেড়েছে। তা হটাতে কলকাতা পুরসভার টাউন ভেন্ডিং কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে বহু বার বলেও লাভ হয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আশা করি শহরের হকার-ছবিটা বদলাবে।’’

সম্প্রতি গড়িয়াহাট বাজারে গিয়ে দেখা গেল, ফুটপাত জুড়ে মাথায় টিনের শেড থেকে ঝুলছে প্লাস্টিক ও কাপড়ের ছাউনি। অথচ বছরকয়েক আগে গড়িয়াহাট মোড়ে ভয়াবহ আগুন লাগার পরে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এই প্লাস্টিক, কাপড়ের ছাউনি। বলা হয়েছিল, কাপড়, প্লাস্টিকের মতো দাহ্য বস্তু কোনও ভাবেই ফুটপাতে ব্যবহার করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়। ফুটপাতে হকারদের জন্য টিনের ছাউনি করে দেওয়া হলেও তা ছাড়িয়ে প্রায় রাস্তায় নেমে এসেছে হকারদের পসরা। ফলে ফুটপাত ধরে হাঁটা কঠিন। রাস্তার দিকে হকারদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ছাউনি বা ছেঁড়া, নোংরা কাপড়ও দৃষ্টিকটু। আগুন লাগলে ওই সমস্ত দাহ্য সামগ্রীর কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাতে পারে। গড়িয়াহাটের ফুটপাতের হকারদের খামতির ছবিটা স্বীকার করে গড়িয়াহাট ইন্দিরা হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেবরাজ ঘোষের দাবি, ‘‘হকারদের দু’দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নিয়মকানুন না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

নিউ মার্কেট হকারদের দৌরাত্ম্য কমাতে রাস্তায় হলুদ লাইন এঁকে দেওয়া হয়েছিল বছরখানেক আগে। কিন্তু অভিযোগ, সেই রেখাকে অতিক্রম করে রাস্তার উপরেই বসে পড়েন বহু হকার। এসপ্লানেড মেট্রো স্টেশন থেকে নিউ মার্কেটের দিকে যেতে গিয়ে হোঁচট খেতে হল। স্টেশনের মুখেই হকারেরা এমন ভাবে পসরা সাজিয়ে বসেছেন যে, তাতে মানুষের সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

উত্তর কলকাতার হাতিবাগানের ছবিটা আরও করুণ। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা গেল, ফুটপাতের দিকে মুখ করে হকারেরা ব্যবসা করছেন। আবার রাস্তার একাংশ দখল করে রাস্তার দিকে মুখ করেও চলছে বিকিকিনি। হাতিবাগান বাজার, বিনোদিনী (স্টার) থিয়েটারের আশপাশের এলাকার ফুটপাতের চেহারা করুণ। বছর কয়েক আগে হাতিবাগান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরে ওই বাজারের আশপাশের ফুটপাতে হকারদের প্লাস্টিক, কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। অথচ শনিবার হাতিবাগান এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, ফুটপাতে হকারদের অধিকাংশই প্লাস্টিক, টিনের ছাউনি ব্যবহার করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাতিবাগান বাজারের এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ‘‘হাতিবাগানে রাস্তার দিকে ফুটপাত দখল করে হকারেরা যে ভাবে বসেন, তাতে যান চলাচলেও সমস্যা হয়। হাতিবাগান বাজারের মুখেও হকারদের দাপট বেড়েছে। নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, হাতিবাগানে হকারদের জন্য নীতি তৈরি হোক।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন