—প্রতীকী ছবি।
মেয়ে নন, জামাই অনুপমই খুন করেছিলেন পর্ণশ্রী ফকিরপাড়ার বৃদ্ধা শিপ্রা ভট্টাচার্যকে। অনুপম ভট্টাচার্যকে জেরায় শুক্রবার এমনই জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান, জেরার মুখে অনুপম নিজের দোষ কবুল করে জানিয়েছে তার স্ত্রী কাবেরী এই ঘটনায় জড়িত নয়। যদিও কাবেরীকে ঘটনার পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। এখনও পুলিশ হাজতে সে। পুলিশের একাংশের দাবি, বাড়ি হাতাতেই শাশুড়িকে খুন করে অনুপম।
পুলিশের একাংশ এখনই অনুপমের কথায় বিশ্বাস করতে নারাজ। এক পুলিশ কর্তার কথায়, ‘‘স্ত্রীকে বাঁচাতে এ কথা বলতেই পারে অনুপম। তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, বৃদ্ধার সঙ্গে মেয়ে-জামাইয়ের সম্পর্ক ভাল ছিল না। মৃগী রোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ছোট থেকে মেয়েকে শান্তিনিকেতন রেখে পড়াশোনা করান শিপ্রাদেবী। এতে মায়ের উপরে রাগ ছিল মেয়ের।
২৬ অগস্ট শিপ্রাদেবীকে তাঁর শোওয়ার ঘরের মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর কানে-মুখে রক্তের দাগ ছিল। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল একটি সুইসাইড নোট। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ জাগে পুলিশের। ময়না-তদন্তে জানা যায়, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বৃদ্ধাকে। এর পরে মেয়ে-জামাইকে জেরা করতেই প্রকাশ হয় আসল ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, সামনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকে শাশুড়িকে খুন করার পরে পেন, কাগজ-সহ রক্ত মাখা জামাকাপড় প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায় অনুপম। ছেলের খাতার পাতা ছিঁড়ে অনুপমই সুইসাই়ড নোটটি লিখেছিল। আত্মহত্যার তত্ত্ব দাঁড় করাতে পুলিশকে বিভ্রান্তও করে অনুপম। কিছু পড়শির উপস্থিতিতে সামনের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সে পিছনের দরজাটি বন্ধ করে দেয়। এক পুলিশ কর্তা জানান, জেরায় অনুপম জানায়, পিছনের দরজা বন্ধ ছিল বলে সে দেখেছে। এত জনের মধ্যে শুধু অনুপমের চোখই কেন ওই দরজায় গেল তা নিয়েও প্রশ্ন জাগে তদন্তকারীদের।
তদন্তকারীরা আরও জানান, বৃদ্ধার সঙ্গে মেয়ে-জামাইয়ের সম্পর্ক ভাল না-থাকা সত্ত্বেও তার শ্বশুরবাড়িতে থাকা নিয়ে তদন্তকারীদের ভাবায়। পুলিশ সূত্রের খবর, মায়ের সঙ্গে গোলমাল হওয়ায় কাবেরী আলাদা থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু অনুপম জানিয়েছিল, চাকরি চলে যাওয়ায় বাড়ি কেনার সাধ্য তার নেই। তাই শাশুড়ি মারা গেলে বাড়িটি তারাই পাবে বলে এই কাজ করে।