Sujit Raut

হাসপাতালে মৃত্যু আহতের, খুনের ধারা যুক্ত না করার অভিযোগ

এর পরেই পুলিশের কাছে তাঁদের পাঁচ ভাড়াটের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন সুজিতবাবুর ছেলে সিদ্ধান্ত। রবিবার সকালে সুজিতবাবু মারা যান।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২০ ০২:৩৭
Share:

সুজিত রাউত। ফাইল চিত্র

মুচিপাড়া থানা এলাকার বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছিল পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। সুজিত রাউত নামে বছর পঞ্চাশের ওই ব্যক্তি রবিবার সকালে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পুলিশ খুনের ধারা যুক্ত না করায় ক্ষুব্ধ মৃতের আত্মীয়েরা।

Advertisement

সুজিতবাবুর ছেলে সিদ্ধান্ত রাউতের অভিযোগ, ‘‘সে দিন গভীর রাতে পুলিশের থেকে খবর পেয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখি, বাবার মাথা, কান, চোখ দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে। পুরনো বিবাদকে কেন্দ্র করে আমাদের বাড়ির পাঁচ ভাড়াটে বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলল। অথচ পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘যে জায়গা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাবাকে উদ্ধার করা হয়েছিল, তার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই দোষীদের শনাক্ত করা যাবে। কিন্তু পুলিশ আমাদের অভিযোগকে আমল দিচ্ছে না।’’

পুলিশ জানিয়েছে, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের একটি চারতলা বাড়ির দোতলায় সপরিবার থাকতেন সুজিতবাবু। তদন্তকারীরা জানান, ঘটনার দিন রাত ১০টা নাগাদ সুজিতবাবু বাড়ির পোষ্য কুকুরের জন্য দুধ কিনতে বেরিয়ে আর ফেরেননি। রাত ১২টা নাগাদ তাঁর ছেলে সিদ্ধান্ত বাবার মোবাইলে ফোন করেও সাড়া পাননি। কিন্তু পাড়ায় আড্ডা দিচ্ছেন ভেবে আর খোঁজ নেননি। রাত ৩টে নাগাদ পুলিশ এসে জানায়, সুজিতবাবু এন আর এসে চিকিৎসাধীন। রাতেই হাসপাতালে গিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন দেখেন, সুজিতবাবুর শরীরে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন, শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, সুজিতবাবুর বাড়ির পিছনে পঞ্চাননতলা এলাকায় রাস্তায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন এক প্রতিবেশী।

Advertisement

এর পরেই পুলিশের কাছে তাঁদের পাঁচ ভাড়াটের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন সুজিতবাবুর ছেলে সিদ্ধান্ত। রবিবার সকালে সুজিতবাবু মারা যান। ময়না-তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশ জানতে পেরেছে, পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছেন ওই ব্যক্তি। লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘‘ময়না-তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এই ঘটনায় খুনের ধারা (৩০২) যুক্ত করা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ যদিও পুলিশের ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত বলছেন, ‘‘আমার বাবা সুস্থ ছিলেন। পড়ে গিয়ে ওই ভাবে দেহের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন থাকতে পারে না।’’ শ্যাম খটিক নামে অভিযুক্ত এক ভাড়াটের আবার পাল্টা অভিযোগ, ‘‘আমাদের সঙ্গে সুজিতবাবুর খারাপ সম্পর্ক ছিল না। আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement