দোকান থেকে কেনা পিৎজ়া গরম করতেই মিলল পোকা

পিৎজ়া খাবে বলে মায়ের কাছে আবদার করেছিল ছেলে। ফ্রিজে রাখা পিৎজ়া গরম করে পাতে দিতেই চক্ষু চড়কগাছ মায়ের।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ অগস্ট ২০১৮ ০১:১৯
Share:

পোকা ধরে যাওয়া সেই পিৎজ়া। নিজস্ব চিত্র

পিৎজ়া খাবে বলে মায়ের কাছে আবদার করেছিল ছেলে। ফ্রিজে রাখা পিৎজ়া গরম করে পাতে দিতেই চক্ষু চড়কগাছ মায়ের। পিৎজ়ার চিজে কিলবিল করছে পোকা। দমদম থানার পাশাপাশি পুরসভার কাছে শুক্রবার ওই পিৎজ়া প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন দমদমের মনুজেন্দ্রনাথ দত্ত রোডের বাসিন্দা রূপা চক্রবর্তী। এর প্রেক্ষিতে নাগেরবাজারে ওই সংস্থার আউটলেটে অভিযান চালিয়ে পিৎজ়ার নমুনা সংগ্রহ করেন পুর আধিকারিকেরা।

Advertisement

এ দিন রূপা জানান, বুধবার রাতে নাগেরবাজারের কাউন্টার থেকে ৮২০ টাকার চিজ বার্স্ট অর্ডার করেছিলেন তিনি। এক প্যাকেট রাতে খাওয়ার পরে আর একটি প্যাকেট ফ্রিজে রেখে দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে কয়েক জন আত্মীয় আসেন। ছেলে সম্রাট‌ তখন পিৎজ়া খাওয়ার আবদার করলে পিৎজ়া গরম করা হয়। রূপার কথায়, ‘‘পিৎজ়া গরম করতেই দেখি চিজের উপরে পোকা কিলবিল করছে। এত দাম দিয়ে কী খাবার কিনছি ভাবুন!’’

ওই রাতেই দমদম থানায় অভিযোগ দায়েরের পরে শুক্রবার দমদম পুরসভার দ্বারস্থ হন রূপা। তাঁর কাছে থাকা ভিডিয়োয় পিৎজ়ার উপরে পোকার উপস্থিতি দেখে অভিযানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্ট। নাগেরবাজারের কাউন্টার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রাজ্য সরকারের ফুড ল্যাবরেটরিতে পাঠায় পুর প্রশাসন। পরে ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘সংগৃহীত খাবারের নমুনায় ক্ষতিকর জীবাণু মিললে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। আপাতত ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তাদের দেখা করতে বলা হয়েছে।’’

Advertisement

খাবারের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষিতে সংস্থার তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট গ্রাহক প্রায় দু’টি পিৎজ়া অর্ডার করেছিলেন। একটি সে দিনই খাওয়া হয়। আর একটি পিৎজ়া গ্রাহক ফ্রিজে রেখে এক দিন পরে গরম করে খাওয়ায় সমস্যা হয়েছে। উনি বলছেন, পিৎজ়া তিনি এ ভাবেই খান। কিন্তু সেটা ঠিক নয়। পিৎজ়া যে সঙ্গে সঙ্গে খেতে হয়, তা তাঁদের বাক্সেও লেখা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।

রূপা বলেন, ‘‘বাক্সে লেখা বিধিসম্মত সতর্কীকরণ ক’জন পড়েন? এর‌ আগে তো কখনও সমস্যা হয়নি। একটা বাক্সের পিৎজ়া ঠিক ছিল, সেটাই বা বলি কী করে? বুধবার রাতে পিৎজ়া খাওয়ার পরে আমি এবং আমার জা অসুস্থ হয়ে পড়ি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন: কলকাতায় আজ অমিত শাহ, রাজ্য জুড়ে পথে তৃণমূল

এই টানাপড়েনে স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘পিৎজ়ার মতো জাঙ্ক ফুড ফ্রিজে রেখে খাওয়া কখনওই ঠিক নয়। কিন্তু তা নিয়ে গ্রাহকদের সচেতন‌ও করা হয় না। কেনার সঙ্গে সঙ্গে পিৎজ়া খাওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, সেই সময় কত ক্ষণ, তার মাপকাঠি কে ঠিক করবে?’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement