KMC Advertisement

গ্লোসাইন এবং এলইডি বোর্ডে করের চাপ, ব্যবসায়ীদের নোটিস দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা

কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেন এতদিন এই কর দেওয়া হয়নি, তা ব্যাখ্যা করতে হবে ব্যবসায়ীদের, প্রয়োজনে শোকজও করা হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫০
Share:

কলকাতা পুরসভা। —ফাইল চিত্র।

দোকানের সামনে গ্লোসাইন বোর্ড বা এলইডি আলোয় ব্র্যান্ডিং করলেই এবার মোটা অঙ্কের কর গুনতে হবে ব্যবসায়ীদের। ইতিমধ্যেই শহরের বহু দোকান ও শোরুমে এই মর্মে নোটিস পাঠাতে শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। পুরসভার দাবি, দোকানের নাম বা কোনও সংস্থার ব্র্যান্ড প্রদর্শন করাও বিজ্ঞাপনের আওতায় পড়ে, ফলে নিয়ম অনুযায়ী কর দেওয়া বাধ্যতামূলক।

Advertisement

পুরসভার পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেন এতদিন এই কর দেওয়া হয়নি, তা ব্যাখ্যা করতে হবে ব্যবসায়ীদের, প্রয়োজনে শোকজও করা হবে। বিজ্ঞাপন বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘গ্লোসাইন বোর্ডের ক্ষেত্রে আগে প্রতি বর্গফুটে কর ছিল বার্ষিক ৭০ টাকা, যা পরে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা আরও বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। এই কর প্রতি বছর আদায় করা হবে।’’

এলইডি আলোয় ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে করের পরিমাণ বেশি। প্রতি বর্গফুটে বছরে ৫০০ টাকা দিতে হবে। পুরসভার দাবি, একসময় এই খাতে কর ছিল প্রতি বর্গফুটে ১,৮৭০ টাকা, যা কমিয়ে ৪৪০ টাকা করা হয়েছিল। বর্তমানে তা কিছুটা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শোরুম নয়, এমন জায়গায় একাধিক গ্লোসাইন বা এলইডি বোর্ড একসঙ্গে লাগানো হলে করের হার বাড়িয়ে বর্গফুট পিছু ৬০০ টাকা করা হয়েছে। পুরসভার মতে, এতদিন নিয়ম থাকলেও এই খাতে কর আদায়ে তেমন নজর দেওয়া হয়নি। কর্মীসংকট-সহ নানা কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর আদায় করা সম্ভব হয়নি। তবে গত তিন বছর ধরে এই বিষয়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। আগে যেখানে মাত্র ৩০টি শোরুম থেকে কর আদায় করা হত, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫০-এ পৌঁছে গিয়েছে। ফলে পুরসভা এই বিষয়ে তৎপরতা বাড়িয়ে কর আদায় বৃদ্ধি করার পক্ষপাতী।

Advertisement

তবে নোটিস পাওয়া ব্যবসায়ীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “নিজের দোকানের নাম প্রদর্শনের জন্যও যদি হাজার হাজার টাকা কর দিতে হয় তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” কারণ, দোকান বা সংস্থার নাম যদি প্রকাশ্যে না থাকে তবে কলকাতার মতো শহরে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা যাবে না। তাই দোকান বা সংস্থার নামের বোর্ডের জন্য অতিরিক্ত কর দিতে হলে, তা ব্যবসায়ীদের কাছে হবে বাড়তি চাপের মতোই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement