Illegal Constructions and TMC

তৃণমূল জমানায় কত অবৈধ নির্মাণের বৈধতা দেওয়া হয়েছে? ফাইল খতিয়ে দেখতে অডিটের নির্দেশ কলকাতা পুরসভায়

কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ বর্তমানে নিজের হাতেই রেখেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই কারণে এই অডিটের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ২০:০৭
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

তৃণমূল আমলে জরিমানার বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণ বৈধকরণের (রেগুলারাইজ়েশন) প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই আবহেই কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে বিল্ডিং রেগুলারাইজ়েশন সংক্রান্ত পুরনো ফাইলপত্রের অভ্যন্তরীণ অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন। কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যত অবৈধ নির্মাণ রেগুলারাইজ়ড হয়েছে,পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে সেই সব নথি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অবস্থান নজরে এসেছে। একাধিক ক্ষেত্রে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজ়ার অভিযানও চালানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুরনো রেগুলারাইজ়েশন ফাইলগুলির অডিটের সিদ্ধান্তকে ঘিরে পুরসভার অন্দরমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুরসভার একাংশের মতে, এই অডিটের মাধ্যমে কত সংখ্যক অবৈধ নির্মাণকে পরবর্তীকালে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ্যে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে রেগুলারাইজ়েশনের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন যথাযথ ভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, অডিটের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হতে পারে।

Advertisement

তবে বিল্ডিং বিভাগের কয়েক জন আধিকারিকের বক্তব্য, এ ধরনের অডিট কোনও নতুন বিষয় নয়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করতে সময়ে সময়ে অভ্যন্তরীণ অডিট করা হয়ে থাকে। ফলে বর্তমান নির্দেশকে অস্বাভাবিক ভাবে দেখার কোনও কারণ নেই বলেই তাঁদের মত।

উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ বর্তমানে নিজের হাতেই রেখেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই কারণে এই অডিটের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, অবৈধ নির্মাণ এবং সেগুলিকে পরবর্তী কালে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। অডিট রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে সেই বিতর্কের অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর পুরসভার অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও তার পর্যবেক্ষণের দিকেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement