চেক জাল করে ব্যাঙ্ককর্মী-সহ ধৃত ৩

পুলিশের দাবি, কোন গ্রাহকের কাছে কোন সিরিজের চেকবই রয়েছে এবং তাঁর সই কেমন দেখতে, সেই সমস্ত তথ্য সুবীর ও শুভাশিসকে দিত সুমিত।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০১৯ ০১:০৪
Share:

চেক জালিয়াতি করে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা লোপাটের ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার এক ব্যাঙ্ককর্মী-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

চেক নিরাপদেই রয়েছে অ্যাকাউন্ট-মালিকের কাছে। কিন্তু ‘সেই চেক’ ব্যবহার করেই টাকা উঠে গিয়েছে ব্যাঙ্ক থেকে! অসমের এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে দেখা গেল, সর্ষের মধ্যেই রয়েছে ভূত! এবং সেই ‘ভূত’ই এই জালিয়াতির কারিগর।

Advertisement

লালবাজার জানিয়েছে, চেক জালিয়াতি করে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা লোপাটের ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার এক ব্যাঙ্ককর্মী-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম সুমিত রায়, সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভাশিস পাল। হুগলির শিয়াখালার বাসিন্দা সুমিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী। চেক জালিয়াতি করে ওই ব্যাঙ্কেরই শ্যামবাজার শাখা থেকে তা ভাঙানো হয়েছিল। সম্প্রতি একই কায়দায় কলকাতা পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকেও কয়েক লক্ষ টাকা লোপাট হয়েছে। সেই রহস্যের জালও অনেকটাই গুটিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে লালবাজার।

পুলিশের দাবি, কোন গ্রাহকের কাছে কোন সিরিজের চেকবই রয়েছে এবং তাঁর সই কেমন দেখতে, সেই সমস্ত তথ্য সুবীর ও শুভাশিসকে দিত সুমিত। তার পরে ব্যাঙ্কের একটি চেকের পাতায় কার্যত ‘প্লাস্টিক সার্জারি’ করে সেই গ্রাহকের নাম ও সই বসানো হত। তার পরে সেই চেক ভাঙিয়ে টাকা তোলা হত। যে সব অ্যাকাউন্টে সেই টাকা যেত, সেগুলির বেশির ভাগই বিভিন্ন নামে খোলা।

Advertisement

তদন্ত শুরু করে সেই অ্যাকাউন্টগুলির উপরে নজর রাখতে শুরু করেন গোয়েন্দারা। জানা যায়, সুমিতও ওই সমস্ত অ্যাকাউন্টের উপরে নিয়মিত নজর রাখে। ক্রমে আরও কিছু সূত্র হাতে আসে। এর পরেই শিয়াখালা থেকে সুমিত এবং কোন্নগর থেকে বাকি দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার ধৃতদের শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। তাদের ১২ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement