Cyber Fraud

কলকাতায় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ কমলেও বিনিয়োগে লোভ দেখিয়ে প্রতারণা চলছেই! ঠকলে কী করবেন, জানাল কলকাতা পুলিশ

পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২০৮ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা হয়েছে কলকাতায়। তার মধ্যে ৩৭ কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৪ সালে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে খোয়া যাওয়া টাকার পরিমাণ কিছুটা বেশি ছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০০
Share:

সাইবার সচেনতা সম্পর্কিত নয়া উদ্যোগগুলির উদ্বোধনে কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। ছবি: সমাজমাধ্যম।

অনলাইন প্রতারণা দিনে দিনে ত্রাসে পরিণত হচ্ছে কলকাতা মানুষের কাছে। বিশেষত বয়স্ক ব্যক্তিদের সাইবার প্রতারণার ফাঁদে পড়ার প্রবণতা বেশি। তবে নাবালক-নাবালিকা, যুবক-যুবতী বা মধ্যবয়সিরাও বাদ যান না। তা নিয়ে লাগাতার প্রচার চালিয়ে কিছুটা ‘সাফল্য’ মিলেছে। কলকাতা পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের তুলনায় ‘ডিজিটাল গ্রেফতারি’র সংখ্যা কমেছে ২০২৫-এ। কিন্তু পুলিশের চিন্তা বৃদ্ধি করছে সাইবার প্রতারণার অন্য এক পন্থা। বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে প্রতারণার জালে ফাঁসানো চলছেই। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নতুন উদ্যোগ শুরু করল কলকাতা পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ, সাইবার শাখা, সিবিআই বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক সেজে ফোন করে অনলাইনে গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পদ্ধতিই ডিজিটাল অ্যারেস্ট। কখনও কখনও কুরিয়ার সার্ভিস, আরবিআই, এনআইএ, এমনকি, আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিচয়ও দেওয়া হয়। কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, লাগাতার সচেনতা বৃদ্ধির প্রচারের পরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো ঘটনা শুধু নয়, সাইবার অপরাধ কিছু অংশে কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনও উদ্বেগ রয়েই গিয়েছে।

সাইবার প্রতারণা সংক্রান্ত সচেনতা কী ভাবে কলকাতাবাসীর মধ্যে বৃদ্ধি করা যায়, তা নিয়ে নতুন কিছু উদ্যোগ নিল পুলিশ। ন্যাশনাল সাইবার অপরাধের হেল্পলাইন রয়েছে। তবে তার পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ নিজেরা একটা নতুন হেল্পলাইন চালু করল। সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে ১৮০০৩৪৫০০৬৬ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাইতে পারবেন। প্রতারিত হলে কী করনীয়, থানায় যেতে হলে কোথায় যেতে হবে ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হবে ফোনেই। সমাজমাধ্যমের পেজ যদি ‘হ্যাক’ হয়, সেই সব ক্ষেত্রেও সমাধান মিলবে ওই হেল্পলাইন নম্বরে।

Advertisement

নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালুর বিষয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘‘এখানে ২৪ ঘণ্টা ফোন করা যাবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘অনেকে বুঝতে পারেন না সাইবার প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন? তাঁদের সাহায্য করা হবে।’’ সাধারণ মানুষের কাছে সুপ্রতিমের আবেদন, ‘‘যদি বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন, তবে দয়া করে এক মুহূর্ত দেরি না-করে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন। আমাদের জানাবেন। আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুত সম্ভব আপনাদের সমস্যার সমাধান করার।’’

শুধু হেল্পলাইন নম্বর চালু নয়, সাইবার সচেনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও কিছু পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। তাদের তরফে ‘সাইবার পাস’ দেওয়া হবে। কী সেই জিনিস? পুলিশ জানিয়েছে, প্রতি মাসে ‘নিউজ়লেটার’ বিলি করা হবে। মূলত বয়স্ক এবং সম্ভ্রান্ত নাগরিকেরা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বা ফোনে কিছু ডাউনলোড করার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার বেশি হন। সাবধানতা অবলম্বন করতে কী করণীয়, আর কী নয়, তা ওই ‘নিউজ়লেটারে’ থাকবে। এ ছাড়াও, সাইবার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নম্বর, ওয়েবসাইট, এপিকে ফাইল, টেলিগ্রাম বা হোয়াটস্‌অ্যাপ গ্রুপ ‘ব্লক’ করার কাজও করবে কলকাতা পুলিশ। যে নম্বর এক বার ‘ব্লক’ করা হবে, দ্বিতীয় বার আর সেটা ব্যবহার করা যাবে না।

পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২০৮ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা হয়েছে কলকাতায়। তার মধ্যে ৩৭ কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৪ সালে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে খোয়া যাওয়া টাকার পরিমাণ ছিল ২৭৪ কোটি, যার মধ‍্যে ১০ শতাংশ মতো উদ্ধার হয়েছে।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছাড়াও উপ কমিশনার (সাইবার) অভিষেক মোদী, যুগ্ম কমিশনার (অপরাধদমন) রূপেশ কুমার-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন এই নয়া উদ্যোগের সূচনায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement