লালবাজার। —ফাইল চিত্র।
অপরাধ দমনে থানা স্তরে ২৪ ঘণ্টার জন্য আর টি (রেডিয়ো টেলিফোনি) মোবাইল ভ্যান চালু করার নির্দেশ দিল লালবাজার। প্রতিটি থানা এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়াতেই সর্বক্ষণ আর টি মোবাইল ভ্যান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইন-চার্জের (ওসি) নজরদারিতে আর টি মোবাইল ভ্যান কাজ করবে বলে লালবাজারের নির্দেশে জানানো হয়েছে।
রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে কলকাতা পুলিশের আধুনিকীকরণে জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পার্ক সার্কাসে কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ-পূর্ব ডিভিশনের অফিসে গিয়ে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক দিনের মধ্যেই দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফের ধাঁচে নিজেদের আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা শুরু করে কলকাতা পুলিশ। যে কোনও বড় ধরনের গোষ্ঠী-সংঘর্ষ, বিক্ষোভ বা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে পুলিশকর্মীরা যে হেলমেট, লাঠি, ঢাল-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেন, সেগুলির গুণগত মান পরীক্ষা করতে কমিটি তৈরি করে লালবাজার। এর পাশাপাশি, বাহিনীর আধুনিকীকরণে আর কী কী সরঞ্জাম প্রয়োজন, তা-ও খতিয়ে দেখতে বলা হয় কমিটিকে। এর মধ্যেই এ বার কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানা এলাকায় আর টি মোবাইল ভ্যান চালু করার নির্দেশ দিল লালবাজার।
কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে, যেমন, পুজো, স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসে শহরে বড় জমায়েতকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই আর টি মোবাইল ভ্যান এত দিন কাজ করত। লালবাজারের তরফে কেন্দ্রীয় ভাবে সেগুলি রাখা থাকত। অপরাধ দমন এবং কোনও এলাকায় দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আর টি মোবাইল ভ্যান ব্যবহার করা হত। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল স্থানের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ জায়গাগুলিতেও রাত-দিন আর টি মোবাইল ভ্যান মোতায়েন রাখতে বলা হয়েছে। এই সংক্রান্ত দৈনন্দিন রিপোর্টও পাঠাতে বলা হয়েছে নির্দেশে।
লালবাজারের তরফে নির্দেশ পাঠানো হলেও কর্মী-সঙ্কটে ভোগা থানাগুলির পক্ষে আদৌ সর্বক্ষণের জন্য আর টি মোবাইল ভ্যান রাখা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গাড়ি থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যবস্থার জোগাড় কী ভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘‘নির্দেশ এলেও কর্মী-সঙ্কটের সঙ্গে আরও একাধিক সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যা কাটিয়ে কী ভাবে নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে