স্টেশনে থামল না ট্রেন, প্রশ্নে রেল

যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। ঘোষণাও করা হচ্ছিল। যাঁরা ট্রেন থেকে নামবেন, তাঁরাও অপেক্ষা করছিলেন কামরার গেটে। কিন্তু ট্রেন থামার কোনও লক্ষণ নেই। হু হু করে ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো যাত্রী থেকে শুরু করে চিৎকার করতে থাকেন ট্রেনের যাত্রীরাও। কিন্তু ততক্ষণে প্রচণ্ড গতিতে ধুলো উড়িয়ে ট্রেনটির ৭টি কামরা প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে।

Advertisement

অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০১৫ ০৩:৩০
Share:

যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। ঘোষণাও করা হচ্ছিল। যাঁরা ট্রেন থেকে নামবেন, তাঁরাও অপেক্ষা করছিলেন কামরার গেটে। কিন্তু ট্রেন থামার কোনও লক্ষণ নেই। হু হু করে ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো যাত্রী থেকে শুরু করে চিৎকার করতে থাকেন ট্রেনের যাত্রীরাও। কিন্তু ততক্ষণে প্রচণ্ড গতিতে ধুলো উড়িয়ে ট্রেনটির ৭টি কামরা প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে। ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে যাচ্ছে দেখে শেষ সময়ে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষেন ট্রেনের গার্ড। তার পরেই বিরাট আওয়াজ করে ট্রেনটির গতি কমতে শুরু করে। কামরায় বিদ্যুৎও চলে যায়। দু’এক মিনিটের মধ্যে ট্রেনটিও কিছুটা এগিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

Advertisement

ব্যারাকপুর ছাড়ার পরে সোমবার সকাল সওয়া ১১টা নাগাদ বেলঘরিয়া স্টেশনে থামার কথা ছিল কল্যাণী-শিয়ালদহ সুপার (৩১৩২০) ট্রিনটির। রেল সূত্রে খবর, শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন নিয়ে আসার পরে চালক জানান, বেলঘরিয়ায় যে ট্রেনটি থামার কথা, তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। তাই এই বিপত্তি। চালককে আপাতত ‘বুক’ করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।

যাত্রীদের ক্ষতি হয়নি, ট্রেনও বেলাইন হয়নি। কিন্তু রেলের বিভিন্ন দফতরের কাজ যে নিয়ম ভেঙে চলছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল এই ঘটনা।

Advertisement

কী কী ভুল করেছেন কর্মীরা? রেল কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, প্রথমেই ভুল করেছেন চালক। অবশ্য তা তিনি স্বীকারও করে নিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, স্টেশনের স্টার্টার সিগন্যাল লাল থাকলে নিশ্চয়ই চালক তা দেখতে পেয়ে সর্তক হতেন। রেলের নিয়মে যে স্টেশনে ট্রেন থামবে সেখানে স্টার্টার সিগন্যাল প্রথমে লাল থাকবে। পরে স্টেশন মাস্টার চালককে সবুজ সিগন্যাল দেবেন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময়ে বেলঘরিয়া স্টেশনের স্টার্টার সিগন্যাল ছিল সবুজ। রেল কর্তাদের একাংশ বলছেন, এটাও চূড়ান্ত গাফিলতি। এ ক্ষেত্রে সিগন্যাল বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। গার্ড ট্রেনটি থামালেও রেল কর্তাদের অনেকে বলছেন, গার্ড যখন দেখলেন প্ল্যাটফর্ম এসে গেলেও চালক ট্রেনের গতি কমাচ্ছেন না, তখন তাঁরই উচিত ছিল চালককে সর্তক করা।

রেল সূত্রে খবর, যে ভাবে গার্ডকে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষতে হয়েছে, তাতে ট্রেন বেলাইন হতে পারত। আবার বেলঘরিয়া স্টেশনের গা ঘেঁষে উড়ালপুল। যার নীচে বন্ধ লেভেল ক্রসিং। বেআইনি হলেও সেখান দিয়ে সারাক্ষণ লাইন পার করেন অজস্র মানুষ। ট্রেনটি দ্রুত গতিতে বেরিয়ে গেলে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হতেন। বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচেছেন কল্যাণী-শিয়ালদহ সুপারের যাত্রীরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement