অকুস্থলে আজ রাহুল

ওদের টেন্ডারেই ভেঙেছে, দায় ঠেললেন মমতা

ঘটনার পরেই ঈষৎ হাল্কা সুরে উল্লেখ ছিল। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরে আর কোনও সংশয়ের লেশমাত্র রাখলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বিবেকানন্দ উড়ালপুল ভেঙে পড়ার দায়িত্ব তিনি সরাসরি চাপিয়ে দিলেন আগের বামফ্রন্ট সরকারের ঘাড়েই!

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:৪৮
Share:

ঘটনার পরেই ঈষৎ হাল্কা সুরে উল্লেখ ছিল। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরে আর কোনও সংশয়ের লেশমাত্র রাখলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বিবেকানন্দ উড়ালপুল ভেঙে পড়ার দায়িত্ব তিনি সরাসরি চাপিয়ে দিলেন আগের বামফ্রন্ট সরকারের ঘাড়েই!

Advertisement

দুর্ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার প্রচার কর্মসূচি বাতিল করে কলকাতা ছুটে এসেছিলেন মমতা। ফের শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরে ফিরে গিয়ে তিনি সভা করেছেন দাঁতন, কেশিয়াড়ি, চন্দ্রকোনা, সবং ও ডেবরায়। এই এক ঝাঁক নির্বাচনী সভার মধ্যেই দাঁতনে মমতা এ দিন মন্তব্য করেছেন, ‘‘একটা-দু’টো সেতু করে গিয়েছে। সেগুলোও আজ আমাদের শেষ করতে হচ্ছে। এমন কন্ট্রাকটরি করেছে, এমন টেন্ডার দিয়েছে, সব দুমদাম ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে!’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘আমার তো ভয় লাগে যখন রাজারহাট দিয়ে যাই— কখন ধপ করে না ভেঙে পড়ে! রসুলপুরে একটি বন্দর হওয়ার কথা ছিল। টেন্ডার ছাড়াই সাদা কাগজে বলেছে— পোর্টটা তৈরি করে দিন!’’

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাব অবশ্য ফিরিয়ে দিয়েছে সিপিএমও। দলের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের কথায়, ‘‘মানুষের রোষে মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়ে গিয়েছেন! ঘুষ-কাণ্ড দেখার পরে মানুষ এখন হাতেনাতে ঘুষের ফল দেখতে পাচ্ছেন। বিপদে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী এখন খুল্লামখুল্লা মিথ্যা কথা বলছেন!’’ বাম জমানার নকশায় যদি ভুল থেকে থাকে, তা হলে মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ বছরেও সেই ভুল শোধরালেন না কেন— প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম। পাশাপাশিই তাদের বক্তব্য, কলকাতায় বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনের প্রচার পুস্তিকায় বিবেকানন্দ উড়ালপুলকে তৃণমূল জমানার কৃতিত্ব বলেই দেখানো হয়েছিল। সেলিমের মন্তব্য, ‘‘এখন বিপদ হল বলেই দোষ বামেদের হয়ে গেল! যে অংশ তাড়াহু়ড়ো করে ঢালাই করতে গিয়ে ভেঙে পড়ল, সেটা তো ইঞ্জিনিয়ারদের নকশায় তৈরি হচ্ছিল না! হচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বাণী অনুযায়ী!’’ গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে সিপিএম।

Advertisement

এ দিন সকালে ঘটনাস্থলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য দলকে আর একপ্রস্ত বিপারকে ফেলেছে। স্থানীয় এই সাংসদ বলেন, ‘‘এলাকার কিছু লোক জন আমাকে জানিয়েছিলেন, নকশাতেই গোলমাল রয়েছে। সেই কথা সরকারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু ৬০ শতাংশ কাজ হয়ে যাওয়ায় রাজ্য সরকারের পক্ষে হয়তো তা বদলানো সম্ভব হয়নি।’’

উড়ালপুল ভেঙে পড়ার থেকে নকশার ভুল শোধরানোটা কি ভাল ছিল না? সুদীপবাবুর জবাব, ‘‘আমি মনে করি, রিমডেলিং করা গেলে ভাল হতো।’’

Advertisement

তাঁর সরকার তাঁর কথা শুনল না কেন? ‘‘আমার সরকার নয়। মা-মাটি-মানুষের সরকার,’’ বলেন সুদীপবাবু।

এই চাপানউতোরের মাঝেই শনিবার ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধী। ভোট প্রচারে আজ বর্ধমানে দু’টি ও বাঁকুড়া জেলায় একটি সভা রয়েছে রাহুলের। তার আগে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টারে রেসকোর্স ছুঁয়ে সড়কপথে পোস্তা যাওয়ার কথা রাহুলের। যাবেন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি আহতদের দেখতেও। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘যে হেতু প্রচারে উনি রাজ্যে আসছেন, তাই অকুস্থলে এক বার যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, প্রচার সেরে ফেরার পথে যাবেন। পরে ওঁর দফতর থেকে জানানো হয়, উনি আহতদের দেখে সভায় যেতে চান।’’

আবার শাসক তৃণমূল এবং বিরোধী বামেদের একই তিরে বিঁধতে চেয়েছে বিজেপি! দলের দুই কেন্দ্রীয় নেতা মুখতার আব্বাস নকভি এবং সিদ্ধার্থনাথ সিংহ এ দিন বলেন, ‘‘কালো তালিকাভুক্ত একটা সংস্থাকে বরাত দিয়েছিল সিপিএম সরকার। অর্থাৎ সিপিএম ও তৃণমূল, দু’পক্ষেরই দুর্নীতির সঙ্গে যোগাযোগ আছে!’’ তদানীন্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতারের দাবিও তুলেছেন সিদ্ধার্থনাথ।

জবাবে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোকবাবু বলেন, ‘‘মোদী ও দিদির আঁতাঁতেই এই সব অবান্তর কথা বলা হচ্ছে! জেএনএনইউআরএম প্রকল্পের আওতায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ডেকে ওই সংস্থাকে বেছে নিয়েছিল। তখন তারা কালো তালিকাভুক্ত ছিল না। সেটা হয়েছে পরে। তার পরেও চুক্তি পুনর্নবীকরণ করেছে কিন্তু এই সরকারই!’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement