শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় বাজেট পেশ করছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। —নিজস্ব চিত্র।
কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে শুক্রবার বাজেট পেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে সরগরম হয়ে ওঠে পরিবেশ। আগামী অর্থবর্ষের জন্য বাজেট পেশ করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গত অর্থবর্ষের তুলনায় কিছুটা কমলেও, ঘাটতি নিয়েই বাজেট পেশ করতে হয়েছে পুর কর্তৃপক্ষকে।
পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১২২.০৬ কোটি টাকা। এ বছর সেই ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ১১১ কোটিতে। যদিও নির্ধারিত আয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছোতে পারেনি পুরসভা। পানীয় জল-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বরাদ্দ থাকলেও সম্পূর্ণ খরচ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা গিয়েছে। তবে জল, রাস্তা, আলোর মতো পরিকাঠামোগত বিষয়ে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার একাংশের দাবি, চলতি বছর বিধানসভা ভোটের পরেই ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। ভোটের আগে তাই শেষ বাজেটে বিশেষ ঝুঁকি নিতে চাননি মেয়র।
তবে বাজেট পেশের পরই বিরোধীদের তরফে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। পুর বাজেটে রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, বাংলার আবাস যোজনার মতো প্রকল্পের উল্লেখ কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী কাউন্সিলরেরা। তাঁদের দাবি, রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পকে পুরসভার বাজেটে টেনে আনা অনভিপ্রেত এবং এর মাধ্যমে আর্থিক চিত্রকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বাজেটকে কটাক্ষ করে ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেট বলে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, আয় বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই, অথচ উন্নয়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেট বলে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্য দিকে, মেয়র ফিরহাদ দাবি করেছেন, সীমিত আর্থিক পরিসরের মধ্যেও শহরের সামগ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পানীয় জল, রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় জোর দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘাটতি কমানোই যে প্রশাসনের আর্থিক শৃঙ্খলার প্রমাণ, সে কথাও তুলে ধরেন মেয়র। সব মিলিয়ে ঘাটতি কমলেও রাজনৈতিক বিতর্কে ছায়াচ্ছন্ন থাকল কলকাতা পুরসভার এ বারের বাজেট। আগামী দিনে আয় বৃদ্ধি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়, সে দিকেই নজর থাকবে নাগরিক মহলের।