বারো মাসে ৬০০০ লাইসেন্সের পুনর্নবীকরণ। অর্থাৎ মাসে গড়ে ৫০০টি। আর তাতে ছাড়পত্র দিতে পারেন এমন অফিসারের সংখ্যা এই মুহূর্তে মাত্র সাত!
শহর জুড়ে হোটেল, হাসপাতাল, নার্সিংহোম, শপিং মল, সিনেমা হল, বহুতল — সংখ্যাটি প্রায় ৬ হাজার। আর এই প্রতিটিকে বছরে এক বার করে দমকলের লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করাতে হয়। মানে, করানোর কথা। অঙ্কের হিসেবে প্রতি বছর সেই ৬ হাজার আবেদন খাতায়কলমে দমকল দফতরে জমা পড়ার কথা। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে ৫০০।
নিয়ম বলছে, দমকলের ‘প্রিভেনটিভ’ বিভাগের অফিসারেরা সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়ির অগ্নি-নিবার্পণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হলে তবেই লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ হয়। কিন্তু, প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি সেই অফিসারেরা সব জায়গায় যান? বৃহস্পতিবার কলকাতার বুকে হোটেলের আগুনে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর পরে সেই প্রশ্নটাই বড় হয়ে উঠে এসেছে। কারণ, হো চি মিন সরণির সেই গোল্ডেন পার্ক হোটেলে অগ্নি নির্বাপণ কোনও ব্যবস্থাই ছিল না বলে দমকলের অফিসারেরাই জানিয়েছেন। এমনকী, ফেব্রুয়ারির পরে তাদের লাইসেন্সও পুনর্নবীকরণ করা হয়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
দমকলের এক অফিসারকে এ প্রশ্ন করতেই অবাক হয়ে তিনি বলেন, ‘‘সে কী! আপনারা জানেন না! আমাদের যে বিভাগ পরিদর্শনে গিয়ে যাচাই করে, গত পাঁচ বছর ধরে ওই বিভাগে ডিরেক্টর ও ডেপুটি ডিরেক্টর পদটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে! বিভাগের প্রধান না থাকলে কাজ কী ভাবে হয়, বোঝেন তো! বিভাগে এই মুহূর্তে অফিসার রয়েছেন ৭ জন। মাসে ৫০০ জায়গায় সরেজমিনে গিয়ে সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা কি ৭ জনের পক্ষে দেখা সম্ভব?’’
শুধু তো কলকাতা নয়, শিলিগুড়ি, বর্ধমান-সহ রাজ্যের অন্যত্রও ছুটতে হয় ওই ৭ জনকেই। ফলে, বাস্তবে যা হওয়ার কথা তাই হচ্ছে বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে। যাঁরা লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের জন্য আসেন, অফিসে বসেই তাঁদের সেই আবেদনপত্র দেখে সন্তুষ্ট হতে হয়। ফলে, সেই সব বহুতল, হাসপাতাল, নার্সিংহোম, হোটেল, শপিং মল-এ অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ রয়েছে কি না, তারা নিয়মিত ‘ফায়ার ড্রিল’ করছে কি না তা আর দেখা সম্ভব হয় না অফিসারদের। অনেক ক্ষেত্রেই তাই ‘ঝামেলা’ এড়িয়ে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করার সময়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে ‘খুশি’ করার প্রবণতাও দেখা দেয় বলে অভিযোগ।
এক দমকল অফিসারের কথায়, ‘‘দফতরে গাড়ি রয়েছে একটি! ফলে মাসে ৫০০ জায়গায় ছোটার মতো পরিকাঠামোও নেই।’’ প্রিভেনটিভ বিভাগ অনুমোদন দিলে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের কাজ করে লাইসেন্স বিভাগ। সেখানেও কর্মী সংখ্যা ৭।
কী বলছেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়?
পদ খালি ও কর্মীদের এই অভাবের কথা স্বীকার করে নিয়ে তিনি এ দিন বলেন, ‘‘সমস্যা যে আছে তা আমিও জানি। লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের সময়ে এই সরেজমিনে পরিদর্শনের কাজ বিভিন্ন ডিভিশনের ফায়ার স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ-দের দিয়ে করানো যায় কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’