হাওড়া যাওয়ার জন্য গভীর রাতে পার্ক সার্কাস থেকে অটো ভাড়া করেছিলেন এক তরুণী। মাঝপথে মধ্য কলকাতার গলিতে তাঁর টাকা ও জিনিসপত্র লুঠ করে পালায় অটোচালক ও তার সঙ্গী দুষ্কৃতীরা। মাঝরাতে অচেনা তল্লাটে ঘোরাঘুরি করার পরে শেষমেশ স্থানীয় কয়েক জনের সাহায্যে গিরিশ পার্ক থানায় পৌঁছন ওই তরুণী।
এ শহরে এসে পথ ভুলে বিপদে পড়েছিলেন নেপালি এক তরুণী। সাহায্য চাইতে গিয়ে কয়েক জন মত্ত যুবকের পাল্লায় পড়ে যাচ্ছিলেন। কপালগুণে তখনই মোটরবাইক-আরোহী এক পুলিশকর্মী এসে পড়ায় রক্ষা পান তিনি।
রাস্তাঘাটে বিপদে পড়লে যাতে সহজেই কাছাকাছি থাকা পুলিশের সাহায্য মেলে, সে কথা চিন্তা করেই এ বার নতুন একটি অ্যাপের কথা ভেবেছে লালবাজার। লালবাজারের খবর, এই অ্যাপের সাহায্যে কাছাকাছি কোথায় থানা রয়েছে, কোথায়ই বা রয়েছে কিয়স্ক— জানা যাবে সবই। পুলিশের টহলদার গাড়ি বা মোটরবাইক কোন সময়ে কোন রাস্তায় রয়েছে, জানা যাবে তা-ও। অ্যাপেই মিলবে বিভিন্ন থানা এবং লালবাজার কন্ট্রোলের নম্বরও।
আগেও কখনও মহিলাদের নিরাপত্তায়, কখনও বা দুর্গাপুজোর ভিড় কিংবা পার্কিং লট পাওয়ার জন্য অ্যাপ চালু করেছেন লালবাজারের কর্তারা। এক কর্তার কথায়, ‘‘মহানগরের নৈশ জীবনের চরিত্র বদলাচ্ছে। বহু নাগরিক নাইট শিফ্টে কাজ করে অনেক রাতে বাড়ি ফেরেন। ওই সময়ে পথে-ঘাটে বিপদে পড়লে মানুষকে যাতে তৎক্ষণাৎ পুলিশি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই অ্যাপের ভাবনা।’’ তিনি জানান, যে ভাবে ওলা বা উবেরের অ্যাপ ব্যবহার করা হয়, অনেকটা তেমন ভাবেই কাজ করবে এই অ্যাপ। গুগলে শহরের যে মানচিত্র রয়েছে, সেখানে ৬৯টি থানা ও ১২৫টি কিয়স্ককে চিহ্নিত করে দেওয়া হচ্ছে। রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, কুইক রেসপন্স টিমের মতো টহলদার গাড়ি এবং থানার মোটরবাইকগুলিতে বসানো হচ্ছে জিপিএস। যাতে অ্যাপে সেগুলির অবস্থান বোঝা যায়।
কলকাতা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘অ্যাপটি প্রাথমিক ভাবে তৈরি করা হয়েছে। সেটি ঠিক মতো কাজ করছে কি না দেখতে আমাদের অফিসারেরা পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করছেন। আরও নতুন কিছু বিষয় এর মধ্যে ঢোকানো যায় কি না, দেখা হচ্ছে তা-ও।’’ অ্যাপটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, নিশ্চিন্ত হওয়ার পরেই আম-জনতাকে তা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে বলে জানান ওই কর্তা।
পুলিশের একাংশ বলছে, অনেক সময়েই রাতের দিকে কোনও ঘটনা ঘটলে দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে থানা। এ থানা থেকে সে থানা— ঘুরে বেড়াতে হয় অভিযোগকারীকে। এই অ্যাপে মানচিত্রে থানার সীমানাও দেওয়া থাকবে। ফলে কোন ঘটনা কোন থানা এলাকায় ঘটেছে, তা-ও স্পষ্ট হয়ে যাবে। অনেক সময়ে টহলদারি ভ্যানগুলি নিজেদের জায়গায় থাকে না। ‘‘এই অ্যাপ চালিয়ে সেই নজরদারিও কিন্তু করতে পারবেন পদস্থ কর্তারা,’’ মনে করিয়ে দিলেন এক পুলিশ অফিসার।