দেশপ্রিয় পার্কে পূর্ব ও পশ্চিম, দু’দিকের সিগন্যালই সবুজ। ডান দিকে ঘোরার কোনও সিগন্যাল না থাকা সত্ত্বেও রাসবিহারী মোড় থেকে এসে ডান দিকে সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের দিকে ঘুরছিল একটি সরকারি বাস। তখনই গড়িয়াহাট থেকে রাসবিহারী মোড়ের দিকে যাওয়া অন্য একটি বেসরকারি বাস ওই বাসটির পেটে ধাক্কা মারে। ঘটনায় জখম হন ১৯ জন।
এর পরেই দেশপ্রিয় পার্ক থেকে ডান ও বাঁ দিকে যানবাহনের ঘোরা বন্ধ করে দিল পুলিশ। সূত্রের খবর, এখন থেকে সাদার্ন অ্যাভিনিউমুখী সব বাস ও গাড়িকে গড়িয়াহাট মোড় হয়ে ঘুরে যেতে হবে। পুলিশের একাংশ জানিয়েছেন, ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও ওই মোড়ে ‘অলিখিত নিয়ম’ ছিল রাসবিহারী অ্যাভিনিউ থেকে ডান বা বাঁ— যে কোনও দিকে যেতে পারবে যাত্রিবাহী বাস। এ বার থেকে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হল।
পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ হাওড়া স্টেশন থেকে যাদবপুর যাচ্ছিল ই-১ রুটের একটি সরকারি বাস। দেশপ্রিয় পার্কের কাছে সিগন্যাল সবুজ থাকা অবস্থায় ডান দিকে ঘুরে যায় বাসটি। তখন গড়িয়াহাট থেকে রাসবিহারী মোড়ের দিকে যাচ্ছিল কে-৭ রুটের একটি বেসরকারি বাস। পুলিশের দাবি, বেসরকারি বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা ধাক্কা মারে সরকারি বাসটিকে। পুলিশ জানায়, জখমদের মধ্যে চার জন মহিলা। আহতদের প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ১৭ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শঙ্করপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় (৭১) নামে এক বৃদ্ধের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে এসএসকেএম-এ ভর্তি করা হয়। রাহুল আমিন নস্কর নামে আর এক জখম বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরেই স্থানীয় লোকজন এবং ট্রাফিক পুলিশ বাসযাত্রীদের উদ্ধারে নেমে পড়েন। পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। আহতদের প্রথমে অটোয় নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে। প্রতক্ষ্যদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনার সময়ে রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের দু’দিকের সিগন্যাল সবুজ ছিল। তার মাঝেই ওই সরকারি বাসটি ডান দিকে ঘোরার চেষ্টা করার ফলেই সংঘর্ষ হয়। চেতলার বাসিন্দা অভিষেক বসু বলেন, ‘‘দু’টি বাসের গতিই ছিল বেশি। সিগন্যাল ভেঙে সরকারি বাসটি এগিয়ে যেতেই বেসরকারি বাসটি নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পেরে সোজা সেটির মাঝ বরাবর ধাক্কা মারে।’’
ঘটনার পরেই উদ্ধারকাজে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের ফোন করে সবিস্তার ঘটনাটি জানেন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। পুলিশ সূত্রের খবর, দু’টি বাসই মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকায় দেশপ্রিয় পার্ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় তিরিশ মিনিট বন্ধ রাখা হয় রাসবিহারী অ্যাভিনিউ এবং শরৎ বসু রোডের এক দিকের যান চলাচল। ফলে ব্যাপক যানজট হয় ওই এলাকায়। পরে ক্রেন দিয়ে বাস দু’টিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কে-৭ বাসটির চালক পলাতক।