শনিবার গড়িয়াহাটের স্কুলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন পুলিশের। — নিজস্ব চিত্র।
কলকাতার গড়িয়াহাটে স্কুলে তাণ্ডবের অভিযোগে এফআইআর রুজু করল পুলিশ। তিনটি পৃথক ধারায় এফআইআর রুজু হয়েছে। শুক্রবার বহিরাগতেরা গড়িয়াহাটের ‘কমলা চ্যাটার্জি স্কুল ফর গার্লস’-এ প্রবেশ করে তাণ্ডব চালান বলে অভিযোগ। ওই অভিযোগ পেয়ে শনিবার স্কুলের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় থানার পুলিশকর্মীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, কমলা চ্যাটার্জি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা দেবযানী দাস থানায় অভিযোগ জানান। কয়েকজন ব্যক্তি স্কুল চত্বরে প্রবেশ করে বেঞ্চগুলি ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই অভিযোগ পেয়ে গড়িয়াহাট থানার পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। তাঁরা গিয়ে দেখেন, স্কুলের টিনের শেডের নীচে কিছু বেঞ্চ পড়ে রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের কিছু সম্পত্তি অন্যের জায়গায় রেখে দিয়েছিলেন। সেই জিনিসগুলি আবার অপর পক্ষ নিজেদের জায়গা থেকে সরিয়ে স্কুলের জায়গার মধ্যে রেখে দিয়েছিল। এ বিষয়ে তারা আলিপুর আদালতের এ বছরেরই একটি নথিও দেখায় পুলিশকে।
তবে স্কুলের প্রধানশিক্ষিকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। তিনটি ধারায় এফআইআর রুজু হয়েছে গড়িয়াহাট থানায়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৯(৪) ধারা (অন্যের জমিতে অনধিকার প্রবেশ), ৩২৪ (৪) ধারা (ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্যের সম্পত্তি নষ্ট করা) এবং ৫৪ ধারা (ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া) যুক্ত করা হয়েছে এফআইআরে।
উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালে স্কুলটির পথ চলা শুরু। সেই সময় থেকেই থেকে ভাড়া নেওয়া ভবনেই চলছে স্কুল। সূত্রের খবর, এত দিন ধরে একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় সেই ভাড়ার টাকা এখনও পাঠায় স্কুল। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেই ভাড়া আর কেউ গ্রহণ করছেন না। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের উঠে যাওয়ার জন্য কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে স্কুলে গরমের ছুটি চলছে। স্কুল বন্ধ। বিদ্যালয় ভবনের ভিতরে ছিলেন ওই ভবনের দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক মহিলা এবং তাঁর কন্যা। অভিযোগ, শুক্রবার দুপুর ৩টে নাগাদ একদল যুবক স্কুলের মূল ফটকের বাইরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। যার জেরে ভয় পেয়ে ওই মহিলা স্কুলের গেট খুলে দেন। অভিযোগ, তার পরেই স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালান ওই যুবকেরা। পরে খবর পেয়ে স্কুলে পৌঁছোন প্রধানশিক্ষিকা। অভিযুক্তেরা তাঁর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন বলে দাবি প্রধানশিক্ষিকার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই এ বার পদক্ষেপ করল পুলিশ।