পার্ক সার্কাস। ফাইল চিত্র।
বিক্ষোভ থেকে শুরু করে কী ভাবে ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর হয়েছিল, পার্ক সার্কাস-কাণ্ডে
ধৃত চার অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে সেই ঘটনাক্রমের ‘পুনর্নির্মাণ’ করল পুলিশ। বিক্ষোভের পরে অভিযুক্তেরা কোন পথে পালিয়েছিলেন, তারও এ দিন পুনর্নির্মাণ করা হয়। এ দিকে, বিক্ষোভের নামে পার্ক সার্কাসে ভাঙচুর এবং তাণ্ডবের ঘটনায় নতুন করে সাত জনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হল।
তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ইটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, পার্ক সার্কাস মোড় চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। বাদ যায়নি কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িও। কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে ছ’জন পুলিশকর্মী আহত হন। এই বিক্ষোভের ঘটনায় কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পার্ক সার্কাস সংলগ্ন ডিভিশনের অফিসে গিয়ে আহত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দেখা করে পুলিশকে ‘ভয়মুক্ত’ হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। পুলিশকে লক্ষ্য করে যাঁরা পাথর ছুড়েছেন, তাঁদের সাবধান করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরের দিন ঘটনাস্থলে ধৃত অভিযুক্তদের নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বেলায় চার অভিযুক্তকে পার্ক সার্কাসের ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন তদন্তকারীরা। যেখানে প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরে কোন পথে এসে হামলা, কোথা থেকে তাঁরা পাথর নিয়েছিলেন, কী ভাবে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল, তার পুনর্নির্মাণ করা হয়। অভিযুক্তদের নিয়ে পার্ক
সার্কাস সংলগ্ন ময়দানে যেতেও দেখা যায়।
এ দিকে, বিক্ষোভ এবং ইটবৃষ্টির তদন্তে পুলিশি ধরপাকড় চলছে। রবিবার রাত থেকে ধরপাকড় শুরু করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার নতুন করে আরও সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে এক মহিলা রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ধৃতেরা কড়েয়া, পার্ক সার্কাস, বেনিয়াপুকুর, তিলজলা এবং হাওড়ার বাসিন্দা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার দিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ বিক্ষোভকারী উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ইট ছোড়ায় কারা যুক্ত, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আরও কয়েক জনের খোঁজ চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পার্ক সার্কাস-কাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে সোমবার রাতে ফরিদুল ইসলাম নামে হাওড়ার এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এপিডিআর। সহ-সভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, ‘‘ফরিদুল কোনও ভাবেই বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত নন। অভিযোগ মিথ্যা। তাঁকে মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। ফরিদুলকে নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়া হোক।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে