Lost Civilization of Arabia

আরব মরুভূমিতে সন্ধান মিলল হারিয়ে যাওয়া এক যাযাবর সভ্যতার! ‘অন্ধকার সময়ের’ আঁকিবুকি ধরা পড়ল অভিযানে

নেফুদ মরুভূমিতে মানুষের অস্তিত্বের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ খুব কমই পাওয়া যায়। তার মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার বছর ছিল প্রায় ‘অন্ধকার সময়’। এ বার ওই সময়কালে আলোর দিশা দেখাল পাথরের গায়ে কিছু আঁকিবুকি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৯:০১
Share:

সৌদি আরবে নেফুদ মরুভূমিতে পাথরের ঢালে মিলল খোদাই করা প্রস্তর-চিত্রের সন্ধান। ছবি: সংগৃহীত।

এটি পৃথিবীর শুষ্ক অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি। সৌদি আরবের উত্তরে বিশাল নেফুদ মরুভূমি। প্রায় সমতল এক মরুভূমি। তার মধ্যে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কিছু খাড়া খাড়া পাথর। সেই পাথরের গায়েই মিলেছে হারিয়ে যাওয়া এক সভ্যতার খোঁজ।

Advertisement

নেফুদ মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে তিনটি পৃথক অঞ্চল— জেবেল আরনান, জেবেল মলেইহা এবং জেবেল মিসমা। তিন জায়গাতেই পাথরের গায়ে মিলেছে খোদাই করা কিছু চিত্র। পাথরের গায়ে এমন ৬০টিরও বেশি খোদাই-চিত্রের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। কোনও কোনও খোদাই-চিত্রের মধ্যে একাধিক চিত্র মিশে রয়েছে। সব মিলিয়ে পাথরের গায়ে এমন ১৭৬টি চিত্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই চিত্রগুলি এমন এক সময়ের দিকে ইঙ্গিত করে, যে সময়ে এই মরুভূমিতে মনুষ্যবসতির কথা এত দিন জানা ছিল না।

এই মরুভূমিতে অতীতেও খোদাই করা প্রস্তর-চিত্র পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি ছিল নব্যপ্রস্তর যুগের। প্রায় আট হাজার বছরের পুরনো। তবে সম্প্রতি যেগুলির সন্ধান মিলেছে, সেগুলি আরও পুরনো। বয়স প্রায় ১২ হাজার বছর। তা-ও কোনও একটি নির্দিষ্ট সময়ের নয়। খোদাই করা ওই চিত্রগুলির বয়স ১১,৪০০-১২,৮০০ বছরের মধ্যে। এই সময়কালের মধ্যে বিভিন্ন দফায় চিত্রগুলি আঁকা হয়েছিল।

Advertisement

সৌদি আরবের এই মরুভূমিতে মানুষের আনাগোনার ‘প্রমাণ’ আরও পুরনো। অতীতে এক গবেষণায় এই মরুভূমি থেকে মিলেছিল মানুষের পায়ের ছাপ, যেটি প্রায় এক লক্ষ বছরের পুরনো। নেফুদ মরুভূমিতে মানুষের অস্তিত্বের প্রত্নাতাত্ত্বিক ‘প্রমাণ’ খুব কমই পাওয়া যায়। তবে অল্প সংখ্যক যা ‘প্রমাণ’ রয়েছে, তা থেকে জানা যায়— আজ থেকে ২৫ হাজার বছরেরও বেশি আগে থেকে এই অঞ্চলে মানুষের যাতায়াত ছিল। তার পরে আনাগোনা কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। আবার ১০ হাজার বছর আগে থেকে আনাগোনা বৃদ্ধি পায় যাযাবর মানুষদের। মাঝের ১৫ হাজার বছরে এই মরুভূমিতে মানুষের অস্তিত্বের সে ভাবে কোনও ‘প্রমাণ’ মেলেনি। মধ্যবর্তী এই সময়ের কোনও হাড়গোড় বা কোনও ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি। হাতেগোনা কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থাকলেও তা থেকে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও একটি সময়ে মানুষের অস্তিত্বের কথা বোঝা যায়নি।

আজ থেকে প্রায় ১৯-২৬ হাজার বছর আগে পৃথিবীর তাপমাত্রা নাটকীয় ভাবে কমে গিয়েছিল। ওই সময়ে পৃথিবীর সর্বত্রই মানুষের এক স্থান থেকে অন্যত্র যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছিল। ঘটনাচক্রে, নেফুদ মরুভূমির ওই ‘অন্ধকার’ সময়কাল এবং পৃথিবীর তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পতনের সময়কাল প্রায় সমসাময়িক। ১৫ হাজার বছরের এই ‘অন্ধকার’ সময়কালে আলোর দিশা দেখাল সন্ধান পাওয়া নতুন প্রস্তর-চিত্রগুলি।

সৌদি আরবের সংস্কৃতি মন্ত্রকের হেরিটেজ কমিশনের নেতৃত্বে এই প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানটি চলে। অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘গ্রিন আরাবিয়া প্রজেক্ট’। প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি আন্তর্জাতিক দলও এই অভিযানে যুক্ত ছিল। তাতে ছিলেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অফ জিওঅ্যানথ্রোপোলজি, কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্টিসি, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞেরা। ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ জার্নালে ওই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

খাড়া খাড়া পাথরের উপরের দিকের ঢালেও এই চিত্রগুলি খোদাই করা হয়েছিল। ড্রোন দিয়ে সেই ছবিগুলি তুলেছেন গবেষকেরা। তা থেকে অনুমান করা যায়, এই চিত্রগুলি খোদাই করার জন্য পাথরের ওই ঢালে উঠতে হয়েছিল ওই আদিম কালের শিল্পীকে। যা থেকে তার মনোবল এবং কারিগরি দক্ষতা উভয়ই অনুমান করা যায়। কোনও পাথরের গায়ে উট, কোনওটিতে ঘোড়ার মতো কোনও প্রাণীর ছবি খোদাই করা রয়েছে। আবার কোনওটিতে মানুষের মতো করে খোদাই করার চেষ্টাও দেখা গিয়েছে। যে সময়ে এই খোদাইগুলি করা হয়েছিল, ওই সময়ে মরুভূমিতে বিভিন্ন জায়গায় মরুদ্যান বা জলাশয় তৈরি হয়ে গিয়েছিল। গবেষকদের অনুমান, জলের উৎস কিংবা যাতায়াতের পথ চিহ্নিত করার জন্যই পাথরের গায়ে খোদাই করে এই ছবিগুলি আঁকা হত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement