তখনও পথে ঢল নামা বাকি। চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ে। শুভাশিস ভট্টাচার্যের তোলা ছবি।
পুজোর মানচিত্রে গত কয়েক বছরেই বিধাননগর কমিশনারেট এলাকা সামনের সারিতে। তাই ভিড়ও বেড়ে চলেছে বছরের পর বছর। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গাড়িও।
গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার নিরিখে এ বার তাই বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিল বিধাননগর পুলিশ। চতুর্থীতে ভিড়ের ধাক্কায় কিছুটা বেসামাল হলেও অষ্টমীর রাত পর্যন্ত পরীক্ষায় পাশ পুলিশ। তবে এড়ানো যায়নি দুর্ঘটনা। তিন-চারটি দুর্ঘটনা হয়েছে পুজোর প্রথম তিন দিনে। ঘটনায় আহত হয়েছেন চার জন। তবে হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক এবং বেপরোয়া যান চলাচল রোখার ক্ষেত্রে বিশেষ নজির তৈরি করেছে বিধাননগর পুলিশ।
প্রতিটি থানা এলাকায় রাতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তিন দিনে প্রায় ১৫০০টি ক্ষেত্রে কেস দিয়েছে পুলিশ। পুজোর বাকি দিনগুলিতেও সমান ভাবে অভিযান চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।
পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। তবে লেকটাউন, শ্রীভূমি, বাগুইআটি, কৈখালী এলাকায় গাড়ির গতি কমেছে। অন্য দিকে সল্টলেকের এ কে, এ জে, বি জে, এফ ডি, লাবণি আবাসন, বি ই (পূর্ব), এ ই (পার্ট ওয়ান) প্রমুখ ব্লকে ভিড় বেড়েছে তুলনায় কয়েক গুণ। ভিআইপি রোড, রাজারহাট এক্সপ্রেসওয়ে, সল্টলেকের কয়েকটি প্রবেশ পথে অবশ্য যানজটে ভোগান্তি হয়েছে দর্শনার্থীদের।
তবে পুলিশের নতুন ট্রাফিক পরিকল্পনায় কিছুটা হলেও সমস্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের একাংশের। তবে পুলিশের দাবি, যানজট মুক্ত করতে এবং গাড়ির গতি বজায় রাখতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
তবে ট্রাফিক পরিকল্পনার চেয়েও পর্যাপ্ত পার্কিং লটের অভাবে ভুগেছেন গাড়িচালকেরা। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, বড় বড় পুজোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পার্কিং লটে জায়গা মেলেনি। কোথাও কোথাও আবার পার্কিং লট খুঁজতে বহু সময় নষ্ট হয়েছে।
বিধাননগরের এক পুলিশকর্তা জানান, পুজোর আগেই সেই পুজো গাইড প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে এর পরে পুজো সম্পর্কে তথ্য আরও আগে জানানোর ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা করা হবে।
বিধাননগর পুলিশের ডিসি (সদর) নিশাদ পারভেজ জানান, এখনও পর্যন্ত বিধাননগর কমিশনারেট এলাকায় যানজট-সমস্যা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির গতি খানিক কমেছে। তবে পুজোর দিনগুলিতে অভিযান চালানোয় বেপরোয়া ভাবে যান চলাচল, বিনা হেলমেটে মোটরবাইক চালানো কিছুটা হলেও কমেছে।
প্রতি বছর বিধাননগর কমিশনারেট এলাকায় ফাঁকা রাস্তায় বিশেষত রাজারহাট এক্সপ্রেসওয়ে, নিউ টাউনের রাস্তায় মোটরবাইকের রেস কিংবা ২০-২৫ জনের বাইক গ্যাং-এর দেখা মেলেনি। পুলিশের এক কর্তা জানান, প্রতিদিন অভিযান চালানো হচ্ছে। ফলে এখনও পর্যন্ত ওই ধরনের বেপরোয়া যান চলাচলের খবর নেই।
তবে শুধু যান নিয়ন্ত্রণই নয়, নিরাপত্তার দিকেও একইভাবে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের দাবি। বিশেষত, শপিং মল, সল্টলেক, নিউটাউনের ফাঁকা ব্লকের ভিতরের রাস্তায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুজোর আগে লাগাতার অভিযানের পর থেকে গত তিন দিনে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি।