— প্রতীকী চিত্র।
ধাপার জঞ্জালের বিষ-ভার শহর কলকাতার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু কলকাতাই নয়, একাধিক শহরতলি থেকে প্রতিদিন ময়লা জড়ো হয় পূর্ব কলকাতার ধাপায়। ফলে ধাপা তার নিজস্ব ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। গত বছরের মার্চে হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ভয়ানক ধস নামায় শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জলের পাইপ, নিকাশির পাইপ ফেটে গিয়েছিল।সেই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কলকাতা পুরসভা ধাপার পাশে ৭৪ হেক্টর জমিতে আবর্জনা কেন্দ্র গড়ে তুলতে চায়। সেই প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে চার বছর।
কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, ওই জমির পুরোটাই পুরসভা স্থানীয় চাষিদের থেকে কিনেছে। পাঁচিল ঘেরা জমিতে এখন কাজ শুরুর পালা। আধুনিক উপায়ে কী প্রক্রিয়ায় ময়লা ফেলা হবে, আবর্জনাথেকে কী ভাবে বিভিন্ন জিনিস উৎপাদন করা যাবে, সে বিষয়ে বুধবার কলকাতা পুরভবনে দেশের সাতটিনামী সংস্থার প্রতিনিধিরা বিশদে তুলে ধরেন পুরসভা ও রাজ্য সরকারি সংস্থার কর্তা-ব্যক্তিদেরসামনে। কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, নতুন ধাপার প্রকল্পে ওই সাতটি সংস্থা আগেই দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি দরপত্র খোলা হয়েছে। অংশ নেওয়া সাতটি সংস্থার প্রতিনিধিদের বুধবার পুরভবনে ডেকে তাদের কর্মপ্রণালী জেনে নেওয়া হয়।
সাতটি প্রতিষ্ঠানের একটি পুদুচেরির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবংখড়্গপুর আইআইটি-র পরামর্শকৃত সংস্থা। সংস্থাগুলির ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’ খতিয়ে দেখেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিলইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুই অধ্যাপক-সহ একাধিক সরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্তারা।
পুরসভার এক শীর্ষ কর্তা বুধবার বলেন, ‘‘রোজ প্রায় সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন আবর্জনা ধাপায়জমা হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ আবর্জনার ভার সইতে পারছে না ধাপা। যা সারা কলকাতাবাসীর পক্ষে বিপদ-বার্তা দিচ্ছে। নতুনধাপা তৈরি হলে পুরনো ধাপা ভারমুক্ত হবে।’’
পুরসভা সূত্রের খবর, নতুন ৭৪ হেক্টর জমিতে আবর্জনা থেকে সার, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও আধুনিক পদ্ধতিতে নানা সামগ্রী তৈরি হবে।আবর্জনা ফেলে তা থেকে নির্মীত জিনিসে পুরসভার রাজস্বও যাতে বাড়ে, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
পুরনো ধাপা নিয়ে অনেক আগেই সতর্কবার্তা জারি করেছেন পরিবেশবিদেরা। পুরনোধাপার স্তূপের ভারে মিথেন গ্যাসের দাপট পরিবেশের পক্ষে ভয়ঙ্কর দিক। মাঝেমধ্যেই সেখানে আগুন লাগে। কলকাতা পুরসভারকঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক আধিকারিক জানান, নতুন ধাপারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিপদ থাকছেই।
নতুন ধাপা গড়তে দরপত্রে অংশ নেওয়া সাতটি সংস্থার মধ্যে কোন সংস্থা দায়িত্ব পাবে, তা আগামিকাল, শুক্রবার চূড়ান্ত হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে