Urban Development Department

জমি-বাড়ির হস্তান্তর কি বৈধ, কোর্টের রায় ঘিরে প্রশ্ন সল্টলেকে

সল্টলেকে জমি-বাড়ি কেনার জন্য কাঠা-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা করে হস্তান্তর মূল্য দিতে হবে— ২০১২ সালে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৪
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে প্রতি কাঠা জমির জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা করে হস্তান্তর মূল্য (ট্রান্সফার ফি) দিয়ে অনেকেই বাড়ি, জমি কিংবাকোঅপারেটিভ আবাসনে ফ্ল্যাট কিনেছেন সল্টলেকে। অনেকে তা কেনার জন্য কয়েক লক্ষ টাকা জমা দিয়ে দফতরের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু এরই মধ্যে একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে, তার সূত্রে এ ভাবে ট্রান্সফার ফি দিয়ে বাড়ির মালিকানা হস্তান্তরের পদ্ধতির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। যার জেরে সল্টলেকে২০১২ সালের পর থেকে এই পদ্ধতিতে যাঁরা জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনেছেন অথবা বর্তমানে কেনার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনও আইনি জটিলতা তৈরি হবে কিনা,তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পদ্ধতি আদৌ বৈধ কিনা, ইতিমধ্যেই সেই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, তাঁরা এইরায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন।

সল্টলেকে জমি-বাড়ি কেনার জন্য কাঠা-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা করে হস্তান্তর মূল্য দিতে হবে— ২০১২ সালে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তার আগে পর্যন্ত, বিশেষত বাম আমলে, সল্টলেকে জমি-বাড়ি বিক্রি করার আইনি সুযোগ ছিল না। কারণ, ৯৯৯ বছরের লিজ়-চুক্তিতে লোকজনকে জমি দিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। যদিও গোপনে অনেক জমি-বাড়িই সেই সময়ে হস্তান্তরিত হয়েছে বেআইনি ভাবে।

গত ২৭ জানুয়ারি সল্টলেকে বাড়ির মালিকানা বদল সংক্রান্ত একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতেসল্টলেকে কাঠা-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা হস্তান্তর মূল্য (ট্রান্সফার ফি) দেওয়ার সরকারি বিজ্ঞপ্তিটি ২০১৮ সালে হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু তার পরেও ভাষার খানিক অদলবদল করে ২০২২ সালে ফের নতুন ভাবে ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।সেই বিজ্ঞপ্তিকে ‘নতুন বোতলে পুরনো মদ’ বলে আখ্যা দিয়ে এবং আইনের চোখে বিষয়টি অর্থহীন জানিয়ে নস্যাৎ করে দিয়েছে দুই বিচারপতি, সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরেরবিধাননগরের ল্যান্ড ম্যানেজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে ওই বেঞ্চ।

যে মামলা ঘিরে এত জট, সেটি হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে ২০২৪ সালে দায়ের হয়। উইলের মাধ্যমে সল্টলেকের এজে ব্লকে একটি বাড়ি পেয়ে মিউটেশনের জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরেআবেদন করেন দীনেশ গয়াল নামে এক ব্যক্তি। তাঁর আইনজীবী প্রত্যুষ পাটোয়ারি জানান, তাঁর মক্কেলের কাছ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ ৫০হাজার টাকা হস্তান্তর মূল্য চাওয়া হয় পাঁচ কাঠার কিছু কম জমির জন্য। প্রত্যুষের কথায়, ‘‘আমরা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা করি। তাতে ২০১৮ সালে পুর ওনগরোন্নয়ন দফতরের বিজ্ঞপ্তি খারিজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টির উল্লেখ করি। সিঙ্গল বেঞ্চ দফতরকে নির্দেশ দেয়, হস্তান্তর মূল্য ছাড়াই মিউটেশন করতে। কিন্তু পুর ওনগরোন্নয়ন দফতর তা না করায় আমরা আদালত অবমাননার মামলা করি। এর পরে ওই দফতর ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করে। ডিভিশন বেঞ্চও তাদের রায়ে জানিয়েছে, আমাদের থেকে হস্তান্তরমূল্য চাওয়াটা বেআইনি।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘সিঙ্গল বেঞ্চ ল্যান্ড ম্যানেজারকে নির্দেশ দিয়েছে, আমার মক্কেলের মিউটেশন করেআগামী ২০ তারিখ আদালতে হলফনামা দিয়ে তা জানাতে। না-হলে তাঁর বিরুদ্ধে রুল জারিকরা হবে বলেও আদালত জানিয়েছে।’’

এ বিষয়ে কথা বলতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রধান সচিব গোলাম আনসারিকে ফোন করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। কথা বলতে চাননি ল্যান্ড ম্যানেজার রাজীব মণ্ডলও।

ডিভিশন বেঞ্চ ২০২২ সালের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের বিজ্ঞপ্তিকে মান্যতা না দেওয়ায় এবং সিঙ্গল বেঞ্চ ২০১২ সালের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেওয়ায় হস্তান্তর মূল্যের বৈধতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, এত বছর ধরে হস্তান্তর ফি থেকে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর যে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করেছে, হাই কোর্টের রায়ের পরে সেই আয়ের কোনও বৈধতা থাকছে কি? সে ক্ষেত্রেযাঁরা কাঠা-প্রতি পাঁচ লক্ষ টাকা করে হস্তান্তর মূল্য জমা দিয়েছেন, তাঁরা কি টাকা ফেরত পাবেন? উঠছে এমন প্রশ্নও।

এ বিষয়ে পুরমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করছি। সল্টলেকে বাম আমলে বেআইনি হস্তান্তর হত। সরকার কিছু পেত না। আমরা রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিয় এমন ব্যবস্থা করেছি, যাতে মানুষ উপকৃত হন। তাঁরা খুশি মনে নগরোন্নয়ন দফতরকে মূল্য দিয়ে নিজেদের নামে বাড়ি পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের হিতে যা যা করার, সবটাই করা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন