RG Kar Medical College and Hospital

রাতদখলের সেই রাতে ভাঙচুর চলেছিল, ১৯ মাস পর আরজি করের ইমার্জেন্সিতে মেরামতির কাজ শুরু হল, খুলবে কবে?

বন্ধ থাকা জরুরি বিভাগ বুধবার ঘুরে দেখেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে ছিলেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরাও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৮
Share:

রাত দখলের সেই রাতে ভাঙচুরের পর আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। — ফাইল চিত্র।

২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে ‘রাতদখলের ডাক’ দেওয়া হয়েছিল। সে দিন মধ্যরাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন আরজি করে বহিরাগতেরা ঢুকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানো হয়। তার পর থেকে আরজি করের ইমার্জেন্সি বিভাগ কার্যত বন্ধই ছিল। অবশেষে ১৯ মাস পর সেই জরুরি বিভাগে মেরামতির কাজ শুরু করলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

বন্ধ থাকা জরুরি বিভাগ বুধবার ঘুরে দেখেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে ছিলেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরাও। কী ভাবে মেরামতির কাজ হবে, কোন গেট খোলা হবে— সেই সব নিয়ে পরিকল্পনা করে নিতে চান তাঁরা। আপাতত জরুরি বিভাগে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সেই কাজ শেষ হওয়ার পরেই বলা যাবে, কবে থেকে আবার আরজি করের জরুরি বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে।

তবে একটি সূত্রের দাবি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ইমার্জেন্সি বিভাগ খোলার পরিকল্পনা করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপে ১০টা জরুরি শয্যা এবং কয়েকটি অবজ়ার্ভেশন বেড (পর্যবেক্ষণ শয্যা) চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। মেরামতির জন্য কত খরচ হতে পারে? সুপার জানিয়েছেন, আপাতত সেই সম্পর্কে তাঁর ধারণা নেই। তবে জরুরি বিভাগে পরিষ্কারের কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানে থাকা মেশিনগুলির অবস্থা বিবেচনা করে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ভাঙচুরের কারণে যে সব মেশিন নষ্ট হয়েছে, তা আবার সচল করতে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। এ ছাড়াও মেরামতির অন্য কাজ মিলিয়ে খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় এক কোটি টাকা।

Advertisement

গত ১৯ মাস ধরে আরজি করের ইর্মাজেন্সি বিভাগের কাজ চলছে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে। তবে গত শুক্রবার এবং সোমবার পর পর এই ট্রমা কেয়ারে ‘বিপর্যয়’ ঘটে। পর পর দুই ব্যক্তির মৃত্যু প্রশ্ন তুলে দেয় হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে। অভিযোগ, ট্রমা কেয়ারে জরুরি বিভাগ চলায় পরিকাঠামোগত সমস্যা বেড়েছে। অনেকের মতে, তড়িঘড়ি তাই ইমার্জেন্সি চালুর পরিকল্পনা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই মতো বুধবার থেকে কাজ শুরু হল। অন্য দিকে, বুধবার হাসপাতালের রোগী কল্যাণ কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ হতে পারে, তা ভেবে আপাতত ওই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে ছিলেন পড়ুয়ারাও। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কী কী পদক্ষেপের প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে।

কাজ শুরু করতে এত দিন সময় কেন লাগল? হাসপাতালের সুপার বলেন, ‘‘ইমার্জেন্সি বিল্ডিং নিয়ে কিছু আইনি বাধা ছিল। তাই আমি বলেছিলাম, যত ক্ষণ পর্যন্ত সব এজেন্সির থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছি তত দিন কাজ শুরু না-করতে। ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই কাজ শুরু হল।’’ উল্লেখ্য, আরজি করের নির্যাতিতার মৃত্যুর পর হাসপাতালের একটা অংশ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন করে জরুরি বিভাগে মেরামতির কাজ করতে গেলে আবার বিতর্কের তৈরি হতে পারে, সেই আশঙ্কাও ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement