West Bengal Elections 2026

ভোট-পর্বে বাড়ছে হাওয়ালা চক্রের মাথাচাড়া দেওয়ার শঙ্কা

পাঁচ বছর আগে তখনও বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি। পোস্তা বাজারের গলিতে ব্যাগ হাতে ঘোরাফেরা করছিলেন মধ্যবয়সি এক ব্যক্তি।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৯
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন আর সপ্তাহ তিনেক পরেই। তার আগে হাওয়ালা চক্রের হাত ঘুরে শহরে নগদ লেনদেনের আশঙ্কায় আয়কর ও ইডি আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বার বেআইনি পথে শহরে ঢোকা নগদের জোগান বন্ধ করতে গোয়েন্দা বিভাগকেও সতর্ক থাকতে বলল লালবাজার।

পাঁচ বছর আগে তখনও বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি। পোস্তা বাজারের গলিতে ব্যাগ হাতে ঘোরাফেরা করছিলেন মধ্যবয়সি এক ব্যক্তি। গতিবিধি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে আটকে তল্লাশি করেন উপস্থিত পুলিশকর্মীরা। ওই ব্যক্তির কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ৫০ লক্ষেরও বেশি টাকা মেলে। ব্যাগে অন্যান্য জিনিসের নীচে সাজানো ছিল ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল।

অভিযুক্তকে গ্রেফতারির পরে জেরা করে উদ্ধার হওয়া নগদের সঙ্গে হাওয়ালার যোগসূত্র জানতে পারেন তদন্তকারীরা। সে বছর নির্বাচনের আগে শুধু পোস্তা-বড়বাজার এলাকা থেকেই কয়েক দফায় কোটির বেশি নগদ বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। কলকাতা পুর ভোটের আগেও শহর থেকে নগদ উদ্ধারের একাধিক উদাহরণ রয়েছে।

এ বারও শহরের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র পোস্তা, বড়বাজার-সহ শহরের কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বাকি এলাকাতেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নাকা তল্লাশিতে জোর দেওয়া ছাড়াও গোয়েন্দা তথ্যের উপরে ভিত্তি করে নজরদারিতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন লালবাজারের কর্তারা।

কেন নির্বাচনের আগে শহরে হাওয়ালা চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে?

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সাহায্য ছাড়া বেআইনি অর্থ লেনদেন করতেই চক্র কাজ করে। পুরোটাই বেআইনি ব্যবস্থা হওয়ায় লেনদেনের ক্ষেত্রেও কোনও সীমা থাকে না। একসঙ্গে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন করা যায় সহজেই। এক দল দালাল বা হাওয়ালাদার এক শহর বা বিদেশে বসে টাকা সংগ্রহ করেন। দেশের বিভিন্ন শহরে তাঁদের এজেন্ট ছড়ানো থাকে। টাকা দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সাঙ্কেতিক কোড ব্যবহার করা হয়।

টাকার মালিক হাওয়ালাদারকে টাকা পাঠিয়ে দিতে বললেই,ভিন্ রাজ্য বা দেশে বসেই বিভিন্ন দেশ বা রাজ্যে ছড়ানো তাঁর এজেন্টকে হাওয়ালাদার সক্রিয় করেন। এজেন্টের কাছে আগে থেকে রাখা থাকে হাওয়ালাদারের নগদ টাকা। সেই টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। টাকা লেনদেনের সময়ে সাঙ্কেতিক কোড মিলিয়ে নেওয়া হয়। গোটা ব্যবস্থাটাই চলে বিশ্বাসের উপরে। টাকা লেনদেনের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নেন হাওয়ালাদার।

ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সাহায্য ছাড়াই এই অর্থের লেনদেন হয়ে গেলেও প্রেরকের নাম-পরিচয় অথবা গন্তব্য গোপন থেকে যায়। বহু ক্ষেত্রে এজেন্ট ধরা পড়লেও আসল প্রেরকের নাম তাঁরও জানা থাকে না। পুলিশের নজরের আড়ালে থেকে যান বেআইনি অর্থের কারবারি।

প্রাক্তন পুলিশকর্তা পল্লবকান্তি ঘোষ জানালেন, অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন উপায় রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটিই নথিভুক্তহয় কোনও না কোনও স্তরে। একমাত্র হাওয়ালার ক্ষেত্রে নথিভুক্ত হওয়ার উপায় নেই। ফলে বেআইনি কারবারিদের কাছে বেআইনি অর্থ লেনদেনে হাওয়ালা সব সময়ে বিশ্বস্ত।

প্রাক্তন ওই পুলিশকর্তার কথায়, ‘‘শহরের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলিকে মূলত হাওয়ালার কারবারিরা ব্যবহার করে থাকেন। বেআইনি অর্থের লেনদেন আটকাতে নাকাতল্লাশি করা হলেও চক্রের জাল কাটতে গোয়েন্দা তথ্যই বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।’’

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে শহরে হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন আটকাতে লালবাজারের তরফেও বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর। সেখানে সাদা পোশাকের পাশাপাশি নাকা তল্লাশিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।

শহরের অন্যান্য অংশেও অবশ্য নাকা তল্লাশিতে জোর দেওয়া হয়েছে। শহরে ঢোকা-বেরোনোর রাস্তাগুলিতেও নজরদারির জন্য গোয়েন্দা বিভাগকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক কর্তার কথায়, ‘‘কমিশনের নির্দেশ মতোই কাজ হচ্ছে। নির্বাচনে যাতে বেআইনি অর্থ কোনও ভাবে ব্যবহার না হয়, তা দেখা হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন