Indian Sailors

‘ওখানে প্রাণ গিয়েছে একমাত্র ভারতীয় নাবিকদেরই!’ হরমুজ় নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠকে তেহরানকে বার্তা দিল নয়াদিল্লি

আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ় প্রণালীতে সঙ্কটের ইতি টানার উদ্দেশ্যে ব্রিটেন আয়োজিত ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে ভারত-সহ ৬০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৫
Share:

হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ। —ফাইল চিত্র।

হরমুজ় প্রণালী এবং তাঁর আশপাশের ‘সংঘাতপূর্ণ জলপথে’ একমাত্র ভারতীয় নাবিকদের প্রাণ গিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ব্রিটেন আয়োজিত আন্তর্জাতিক বৈঠকে এ কথা জানালেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি। আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ় প্রণালীতে সঙ্কটের ইতি টানার উদ্দেশ্যে ব্রিটেন আয়োজিত ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে ভারত-সহ ৬০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন।

Advertisement

বৈঠকে তেহরানের উদ্দেশে হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার আবেদন জানান মিস্রি। তিনি বলেন, ‘‘এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ হল উত্তেজনা হ্রাস এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কূটনীতি ও আলোচনা শুরু করা।’’ সেই সঙ্গে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং-এর তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালীতে আটকে পড়া বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত অন্তত তিন জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ১ মার্চ ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিক দীক্ষিত সোলাঙ্কির (৩২) দেহ ফিরে পেতে তাঁর পরিবার জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে বৃহস্পতিবার বম্বে হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছে।

ঘটনাচক্রে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদন সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি ব্রিটেন। এ বার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সরকার ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভাবে হরমুজ় সমস্যা সমাধানের বার্তা দিয়েছে। ইরানের যুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গী না-হওয়ায় ট্রাম্প মঙ্গলবার ব্রিটেনকে খোঁচা দিয়ে সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘আপনাদের নিজেদের জন্য লড়াই করা শিখতে শুরু করতে হবে। আমেরিকা আর আপনাদের সাহায্য করবে না, ঠিক যেমন আপনারা আমাদের জন্য ছিলেন না।’’ ঘটনাচক্রে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই বার্তার পরে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে লন্ডন।

Advertisement

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার জবাবে ২ মার্চ থেকে ইরান কার্যত হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। যা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহণের পথ। হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ না তুললে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি তেহরান। এই পরিস্থিতিতে কুয়েত ও ইরাকের মতো উপসাগরীয় তেল রফতানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কারণ হরমুজ় প্রণালী না খুললে তাদের তেল পাঠানোর কোনও উপায় নেই। ফলে এপ্রিল মাসে বিশ্ব জুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে বুধবার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র প্রধান ফাতিহ বিরোল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement