এ বার আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ় প্রণালীতে সঙ্কটের ইতি টানতে সক্রিয় হল ব্রিটেন। এই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় উদ্যোগী হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। সেই বৈঠকে ভারত-সহ প্রায় ৩৫টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ঘটনাচক্রে, ওয়াশিংটনের আবেদন সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি ব্রিটেন। এ বার তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভাবে হরমুজ় সমস্যা সমাধানের বার্তা দিল।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রিটেনের আমন্ত্রণের খবর জানিয়ে বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনার জন্য ব্রিটেনের পক্ষ থেকে ভারত-সহ কয়েকটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমাদের বিদেশসচিব আজ রাতে বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমরা ইরান এবং সেখানকার (পশ্চিম এশিয়া) অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমাদের যে জাহাজগুলি এলপিজি, এলএনজি এবং অন্যান্য পণ্য পরিবহণ করছে, তারা যাতে নিরবচ্ছিন্ন এবং নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। গত কয়েক দিনে আমাদের যে আলোচনা হয়েছে, তার মাধ্যমে ছ’টি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী পার হতে পেরেছে।’’
প্রসঙ্গত, ইরানের যুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গী না-হওয়ায় ট্রাম্প মঙ্গলবার ব্রিটেনকে খোঁচা দিয়ে সমাঝমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘যে সব দেশ হরমুজ় প্রণালী অবরোধের কারণে জেট জ্বালানি পাচ্ছে না, যেমন ব্রিটেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ— নম্বর ১, আমেরিকা থেকে কিনুন, আমাদের প্রচুর আছে, এবং নম্বর ২, কিছু বিলম্বিত সাহস সঞ্চয় করুন, প্রণালীতে যান, আর সরাসরি নিয়ে আসুন।’’ এর পরেই ওই পোস্টে তাঁর হুঁশিয়ারি— ‘‘আপনাদের নিজেদের জন্য লড়াই করা শিখতে শুরু করতে হবে। আমেরিকা আর আপনাদের সাহায্য করবে না, ঠিক যেমন আপনারা আমাদের জন্য ছিলেন না। ইরান প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। অভিযানের কঠিন অংশ শেষ। নিজেরাই গিয়ে নিজের তেল নিয়ে আসুন।’’ ট্রাম্পের ওই হুঁশিয়ারির পরেই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করল লন্ডন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার জবাবে ২ মার্চ থেকে ইরান কার্যত হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। যা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহণের পথ। হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ না তুললে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলের খনি এবং খার্গ দ্বীপ ধ্বংস হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি তেহরান। এই পরিস্থিতিতে কুয়েত ও ইরাকের মতো উপসাগরীয় তেল রফতানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কারণ হরমুজ় প্রণালী না খুললে তাদের তেল পাঠানোর কোনও উপায় নেই। ফলে এপ্রিল মাসে বিশ্ব জুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে বুধবার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র প্রধান ফাতিহ বিরোল। সঙ্কটের এই আবহে নয়াদিল্লি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র্রের দাবি।