বিধাননগর কমিশনারেট

ডাকাতির পরে এটিএমে হামলা, প্রশ্নে নজরদারি

এক রাতে সল্টলেকে ডাকাতি। পরের রাতেই রাজারহাটের চিনার পার্কে এটিএম থেকে টাকা লুঠের চেষ্টা। পরপর দু’টি ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে বিধাননগর কমিশনারেটের নজরদারি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে পুলিশি টহলদারি থাকলেও তা একটি জিপ এসে এলাকায় কিছুক্ষণ ঘুরে চলে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৬ ০২:১৩
Share:

এক রাতে সল্টলেকে ডাকাতি। পরের রাতেই রাজারহাটের চিনার পার্কে এটিএম থেকে টাকা লুঠের চেষ্টা। পরপর দু’টি ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে বিধাননগর কমিশনারেটের নজরদারি।

Advertisement

বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে পুলিশি টহলদারি থাকলেও তা একটি জিপ এসে এলাকায় কিছুক্ষণ ঘুরে চলে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তার পরে রাতভর আর পুলিশের দেখা মেলে না। আরও অভিযোগ, আগে যেমন প্রতি রাতে মোটরবাইক কিংবা সাইকেল আরোহী পুলিশকে নজরদারি চালাতে দেখা যেত, ইদানীং সে সবও উঠে গিয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে সল্টলেকের সিই ব্লকে একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তার পরে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ওই ঘটনার পরেই ফের পুলিশি টহলদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তার মধ্যেই নতুন করে শনিবার রাতে বাগুইআটি থানার চিনার পার্কে এটিএম লুঠের চেষ্টার ঘটনা। পুলিশ জানায়, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের রক্ষীবিহীন এটিএমে হামলা চালায় দুই দুষ্কৃতী। অভিযোগ, এটিএম ভাঙার চেষ্টা চালায় তারা।

Advertisement

রবিবার সকালে টাকা তুলতে গিয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দার বিষয়টি নজরে পড়ে। তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখে, মেশিনের একটি অংশ খুলে নীচে পড়ে রয়েছে। তবে, ভল্ট থেকে দুষ্কৃতীরা টাকা নিতে পারেনি বলেই পুলিশ জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রেও রাতে নজরদারির অভাবের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ওই এটিএমের পাশের রেস্তোরাঁর এক নিরাপত্তা রক্ষী পুলিশকে জানান, শনিবার রাতে দুই যুবককে বারবার এটিএমে যাতায়াত করতে দেখেছেন তিনি। পুলিশের দাবি, ওই দুই যুবককে চিহ্নিত করা গিয়েছে। তবে সিসিটিভির ফুটেজের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। তবে সল্টলেকের যে বাড়িটিতে ডাকাতি হয়েছে, তার আশপাশে কোথাও সিসিটিভি নেই। তাই দুষ্কৃতীদের কোনও ছবি পুলিশ পায়নি। ওই পরিবারের দাবি, ডাকাতি সেরে বেরোনোর সময়ে দুষ্কৃতীদের দলটি বাড়ির কাছে পার্কের মধ্যে দিয়ে পালিয়েছিল। সেই সূত্র ধরে কাছাকাছি রাস্তা বা বাড়ির সিসিটিভি-র ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সল্টলেকের সিই ১৬০ নম্বর ওই বাড়ির বাসিন্দাদের দেওয়া বিবরণ থেকে পুলিশের অনুমান, ডাকাতেরা পেশাদার নয়। কারণ হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির একতলায় জুতো খুলে খালি পায়ে তিনতলায় উঠেছিল দুষ্কৃতীরা। ফলে সহজেই দুষ্কৃতীদের পায়ের ছাপ পেয়ে গিয়েছে পুলিশ। তা ছাড়াও, ডাকাতির সময়ে তারা খেলনা পিস্তল, ছুরি ব্যবহার করেছিল বলে পুলিশ মনে করছে। বাড়ির একতলা থেকে খেলনা পিস্তলের খালি বাক্সও মিলেছে। এর পাশাপাশি ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার আগে মণ্ডপ বাঁধার কাপড় দিয়ে যে ভাবে বাড়ির মহিলাদের হাত বাঁধা হয়েছিল, তা থেকেও ডাকাতদের অপেশাদারিত্বের ছাপ ফুটে উঠেছে বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের আরও দাবি, ডাকাতদের হাতেনাতে ধরতে না পারলেও তল্লাশি চালিয়ে তাদের সম্পর্কে কিছু সূত্র মিলেছে। জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীদের বয়স ২০-২৫ বছরের মধ্যে। তবে দলটির পিছনে পুরনো কোনও দুষ্কৃতী রয়েছে কি না, তা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দলটিতে মোট ক’জন ছিল, তা নিয়েও ধন্দে রয়েছে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement