Teachers Recruiment

শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ এক যুগেরও বেশি, হাঁসফাঁস করছে সরকারি স্কুল

সরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, শুধু হিন্দু স্কুল নয়, রাজ্যের ৩৯টি সরকারি স্কুলে সমস্যা কার্যত একই। অধিকাংশ স্কুলেই অনুমোদিত শিক্ষক পদের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ফাঁকা।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৬
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

শুধু সরকার পোষিত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলই নয়, রাজ্যের ৩৯টি ঐতিহ্যশালী সরকারি স্কুলও শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে। সরকারি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি গত ১২ বছর। সম্প্রতি স্কুল বাঁচাতে অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হিন্দু স্কুলে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যছিল, এই প্রবল শিক্ষক-সঙ্কটেরমধ্যেও কিছু শিক্ষককে বদলিকরা হয়েছে।

সরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, শুধু হিন্দু স্কুল নয়, রাজ্যের ৩৯টি সরকারি স্কুলে সমস্যা কার্যত একই। অধিকাংশ স্কুলেই অনুমোদিত শিক্ষক পদের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ফাঁকা। হিন্দু স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত জানান, তাঁরা স্কুলের শিক্ষক-সঙ্কটের বিষয়টি ইতিমধ্যে বিকাশ ভবনে জানিয়েছেন। শুভ্রজিৎ বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে অঙ্কের শিক্ষক পদ পাঁচটি। তার মধ্যে দু’জনকে বদলি করা হয়েছে। এক জন অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে কাজ চালাচ্ছেন দু’জন শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে এক জন অবসর নেবেন আগামী বছরে। অর্থাৎ, ২০২৭ সাল থেকে মাত্র এক জন শিক্ষক থাকবেন অঙ্কে। এ ভাবে কি পঠনপাঠন চালানো সম্ভব?’’ তিনি আরও জানাচ্ছেন, পুরো স্কুলে ইংরেজির শিক্ষক আছেন এক জন। গ্রন্থাগারিকও এক জন। তা-ও পুরো সময় তিনি হিন্দু স্কুলে দিতে পারেন না। কারণ, অন্য একটি সরকারি স্কুলে গ্রন্থাগারিক নেই। হিন্দু স্কুলের এই গ্রন্থাগারিককে অন্য স্কুলটিতে সপ্তাহে তিন দিন সেই দায়িত্ব পালন করতে হয়।

হিন্দু স্কুলের শিক্ষকদের একাংশের আরও অভিযোগ, স্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে পঠনপাঠন চালু হলেও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। বাংলা মাধ্যমের শিক্ষকেরাই ইংরেজি মাধ্যমে পড়াচ্ছেন। জানা যাচ্ছে, এই স্কুলে অঙ্কের শিক্ষক দেওয়ার দাবিতে সম্প্রতি অভিভাবকেরা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি। ব্রাত্যর আপ্ত সহায়ককে চিঠি দিয়ে পুরো বিষয়টি জানিয়ে এসেছেন অভিভাবকেরা।

সম্প্রতি শতবর্ষ পূর্ণ করেছে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল। টিচার ইন-চার্জ রণজিৎ গরাং বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে অনুমোদিত শিক্ষক পদের ৩০ শতাংশ ফাঁকা। রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং অর্থনীতিতে এক জনও শিক্ষক নেই। নেই প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং প্রাতঃবিভাগের টিচার ইন-চার্জ।’’ জানা যাচ্ছে, একই অবস্থা হিন্দু স্কুলেরও। উত্তরপাড়া গভর্নমেন্ট স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের ৫২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে ২৮ জন নেই। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা রসায়ন, ইতিহাস ও বাণিজ্যে। এই বিষয়গুলিতে এক জন করে শিক্ষক আছে। সংস্কৃত পড়ানোর কেউ নেই।’’

শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, কলকাতায় যে ক’টি সরকারি স্কুল আছে, তার মধ্যে একমাত্র হিন্দু স্কুলে প্রধান শিক্ষক আছেন। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, ‘‘সরকারি স্কুলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হয়। শেষ বার নিয়োগ হয়েছিল ২০১৪ সালে। তা-ও শুধু সংরক্ষিত পদের জন্য। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য শেষ বার নিয়োগ হয়েছিল তারও আগে, ২০১২ সালে।’’

সৌগত জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ ভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দুই ধরনের স্কুল চালায়। একটি হল ব্যাকওয়ার্ড রিজিয়ন গ্রান্ট ফান্ড (বিআরজিএফ) স্কিম-এর স্কুল, অন্যটি এডুকেশনালি ব্যাকওয়ার্ড ব্লক স্কিম-এর স্কুল। তিনি বলছেন, ‘‘শিক্ষা দফতর এখন বিআরজিএফ স্কিম-এর স্কুল থেকে শিক্ষক এনে তাঁদের পাঠাচ্ছে ৩৯টি সরকারি স্কুলে। এ ভাবে অন্য স্কুল থেকে শিক্ষক আনা আমরা মানব না।’’

শিক্ষা দফতরের অবশ্য দাবি, তারা শিক্ষক নিয়োগ করতে যথেষ্ট সক্রিয়। কিন্তু ওবিসি-মামলার জটে আটকে রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। যদিও শিক্ষকদের একাংশের মতে, এই মামলা হওয়ার বহু আগে থেকেই নিয়োগ-প্রক্রিয়া থমকে আছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন