Coronavirus

সচেতনতার প্রচারে ফাঁক, তাই কি আড়ালে সারি-রোগীরা

কলকাতা পুর এলাকায় এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন শুরু হয়েছে।

Advertisement

সৌরভ দত্ত

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২০ ০২:৪৬
Share:

প্রতীকী ছবি

খোঁজ চাই কিন্তু মিলছে কোথায়! করোনা নিয়ন্ত্রণে আইএলআই (ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ইলনেস) এবং সারি (সিভিয়র অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস) রোগীদের সন্ধান মেলা জরুরি। অথচ বাড়ি বাড়ি ঘুরেও সেই পরিসংখ্যান আশানুরূপ নয় বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর। কলকাতা থেকে জেলা— সর্বত্র একই ছবি।

Advertisement

কলকাতা পুর এলাকায় এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন শুরু হয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, ১৭ এপ্রিল থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ১৪০ জন সারি রোগীর সন্ধান মিলেছে। আইএলআই-এর ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৪২৯৩ জন। এর পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার নজরদারি প্রক্রিয়ার পরিসংখ্যান। স্বাস্থ্য দফতরের খবর, ২৭ মে পর্যন্ত আইএলআই-সারি রোগীদের খোঁজে প্রায় ৭০ লক্ষ বাড়ি ঘুরেছেন ওই জেলার স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাতে আইএলআই রোগী পাওয়া গিয়েছে ৮১৯৩ জন। সারি রোগীর খোঁজ মিলেছে ৪৬! ওই জেলার কন্টেনমেন্ট জ়োনে আইএলআই রোগীর সন্ধান মিলেছে ১৬০ জন। সারি রোগী মাত্র চার জন! জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, ‘‘প্রতি বছর ২-৩ শতাংশ জ্বর, সর্দি, কাশির রোগী পাওয়া যায়। সেখানে ৭০ লক্ষ বাড়ি ঘুরে যা আইএলআই মিলেছে তা যৎসামান্য।’’

করোনা সম্পর্কে সামাজিক ভীতি এর বড় কারণ বলে মানছেন পরিদর্শক দলের কর্মকাণ্ডে যুক্ত প্রশাসক-চিকিৎসকেরা।

Advertisement

আরও পড়ুন: খাওয়া নেই দু’দিন, হাওড়ায় বাস পেতেও গড়াল বেলা

বস্তুত, কোভিড নিয়ে জনমানসে এই ভীতি দূর করতে বিশেষ পন্থা অবলম্বন করেছেন পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর করোনা উপদেষ্টা চিকিৎসক শান্তনু সেন। তাঁর মতে, মানুষের একটি অংশ ভাবছেন, জ্বর, সর্দি, কাশি বললেই সাদা রঙের পোশাকে ঢাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা হাসপাতালে ধরে নিয়ে যাবেন। তাঁদের বোঝাতে হবে যে সামান্য উপসর্গে ঘরে থেকেও চিকিৎসা সম্ভব। তাঁর কথায়, “আইএলআই উপসর্গযুক্ত রোগীদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দিচ্ছি আমরা। তবে পনেরো বছরের কম, বয়স্ক মানুষ এবং যাঁদের কো-মর্বিডিটি আছে তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না। কেউ সেটি খেতে না চাইলে তাঁকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, এমন হোমিয়োপ্যাথি ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।’’

একঘরে হওয়ার আতঙ্ক যে করোনা মোকাবিলায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, টিটাগড়ের সাম্প্রতিক ঘটনায় তা স্পষ্ট। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, জ্বরে আক্রান্ত মাঝবয়সি ব্যক্তি প্রতিবেশীদের ভয়ে কাউকে কিছু জানাননি। জ্বর কমাতে ওষুধ খাচ্ছিলেন। শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েও বাঁচানো যায়নি। জানা যায়, তিনি করোনা পজ়িটিভ ছিলেন।

হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের শিবরামপুর গ্রামের ঘটনাও উদ্বেগজনক। সেখানে মুম্বই ফেরত এক শ্রমিকের করোনা পজ়িটিভ ধরা পড়ে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের খবর, আঠাশ বছরের ওই যুবক নেগেটিভ হলেও তাঁকে পজ়িটিভ বলা হয়েছে, এমন দাবি তুলে সম্প্রতি এক আশাকর্মীর বাড়িতে স্থানীয় যুবকেরা চড়াও হন। আশাকর্মীরা জানিয়েছেন, ছেলে যে করোনা আক্রান্ত ভয়ে তা পাড়ায় জানাননি বাবা। আক্রান্ত উপসর্গহীনও ছিলেন। দুইয়ে মিলে স্থানীয়দের একাংশ আশাকর্মীকে কাঠগড়ায় তোলেন।

এই পরিস্থিতির জন্য করোনা সংক্রান্ত ইনফরমেশন, এডুকেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন (আইইসি) বা সচেতনতা প্রচারের ফাঁককেই দায়ী করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘ডেঙ্গিতে জ্বর হলে মানুষ নিজেই রক্তপরীক্ষা করাতে আসেন। তেমন ভাবেই ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ বা শ্বাসকষ্ট রয়েছে কি না, তা মানুষকেই জানাতে হবে। এ জন্য সরকারকে সচেতনতা প্রচারের ধরন বদলাতে হবে। প্রতিদিন করোনা নির্দেশিকা বদলাচ্ছে। কিন্তু রোগ নিয়ে সরকারের প্রচারে বদল ঘটেনি!’’ হোম কোয়রান্টিন প্রসঙ্গে ওই আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘শুধু মুখে হোম কোয়রান্টিন বললে হবে না। স্থানীয় স্তরে তা বিশ্বাসযোগ্য করতে পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা ও সহযোগিতার মনোভাব থাকা জরুরি। তা কিন্তু নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement