কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। —ফাইল চিত্র।
বৈশাখের শুরু থেকেই গরমে হাঁসফাঁস দশা দক্ষিণবঙ্গের। তাপমাত্রা ৪০ ছুঁইছুঁই। তবে আশার কথা শুনিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতিবার থেকেই হতে পারে ঝড়বৃষ্টি। তাতে সামগ্রিক ভাবে গরম অবশ্য কমবে না। তবে সাময়িক স্বস্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে, যার উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে ০.৯ কিলোমিটার। এ ছাড়া, উত্তর-পশ্চিম বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা রয়েছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে স্থলভাগে। ১৬ এবং ১৭ এপ্রিল তার ফলে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে গরমের অস্বস্তিও থাকবে।
বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার কিছু কিছু অংশে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বৃষ্টি হবে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। তবে গরমের অস্বস্তি এই দু’দিনই জারি থাকবে। আলাদা করে গরমের সতর্কতা রয়েছে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পশ্চিম দিকের এই জেলাগুলিতে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকবে।
কলকাতায় বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে। দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়।
উত্তরবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, কোচবিহারে বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতেও বৃষ্টি হবে। রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে উত্তরবঙ্গে। হাওয়া বইতে পারে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।