কণিষ্ক মজুমদার। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী।
তিনি সলমন খান নন।
তাতে কিছু যায়-আসেনি। কারণ, তাঁর বেপরোয়া গাড়ির চাকা এক ফুটপাথবাসীকে পিষে মেরে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির কোনও কঠোর ধারায় মামলা রুজু হয়নি।
তিনি সাম্বিয়া সোহরাবও নন।
তাতে কী! মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দু’টি ট্যাক্সিকে ধাক্কা দিয়ে, গার্ডরেলে ধাক্কা মেরে এবং সব শেষে এক ফুটপাথবাসীকে পিষে দেওয়ার পরে তিনিও দিব্যি গাড়ি ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
তিনি কণিষ্ক মজুমদার।
বলিউডের তারকা কিংবা মহম্মদ সোহরাবের মতো কারও ছেলে না-হলেও বিজন সেতুতে বৃহস্পতিবারের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কণিষ্ক তৃণমূল তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক হোমরাচোমরা বলে পরিচিত। শাসক দলের ছাত্র-যুব সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রথম সারিতে দেখা যায়। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মঞ্চ আলো করেন তিনি। তৃণমূল ভবনেও তাঁর নিয়মিত আনাগোনা।
বছর পঁচিশের ওই যুবক তৃণমূল বা টিএমসিপি-র কোন পদমর্যাদায় আসীন, শাসক দলেরও কেউ সেটা ঠিকঠাক বলতে পারছেন না। তবে তাঁরা এটুকু বলতে পারেন, কণিষ্ক মজুমদারকে খাতির করতে হয়।
কেন খাতির করতে হয়, সেটাও বেশ ঝাপসা। তৃণমূল সূত্রের খবর, কণিষ্কের শিক্ষাগত যোগ্যতা বলতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরে কারিগরি শিক্ষার ডিপ্লোমা। কসবার রাজডাঙার বাসিন্দা কণিষ্ক ২০০৯-এ পড়াশোনার পাট চুকিয়ে তৃণমূলে ঘেঁষতে শুরু করেন। তত দিনে রাজ্যে পালাবদলের ইঙ্গিত ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। ২০১০-এ তৃণমূল কাউন্সিলর ও যুব নেতা, কসবারই বোসপুকুরের বাসিন্দা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। এবং তার পরে ঘনিষ্ঠতা।
বৈশ্বানর বলছেন, ‘‘কণিষ্ক আমার পাড়ার ছেলে। ব্যস, এটুকুই। আমার হাত ধরে হাজারেরও বেশি ছেলে দলে ঢুকেছে। কণিষ্ক আমার কাছ থেকে বিশেষ কোনও সুবিধে পায়নি।’’ বিজন সেতু কাণ্ড নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটা তো একটা দুর্ঘটনা। এর সঙ্গে দলের কী সম্পর্ক?’’
পুলিশি সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনার পরে জনৈক তৃণমূল নেতা এক পুলিশ অফিসারকে ফোন করে কণিষ্ককে ছেড়ে দিতে বলেন। ওই অফিসার জানান, পরিস্থিতি এমন যে, কণিষ্ককে ছাড়লে জনতা ওঁকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলতে পারে!
গড়িয়াহাটে পিতলের বাসনের বড় দোকান আছে কণিষ্কের বাবার। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, পরে শঙ্কুদেব পণ্ডারও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন ওই যুবক। যদিও শুক্রবার শঙ্কুদেবকে এই নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনও মন্তব্য করব না।’’
কণিষ্ক গাড়িটি এক বছর আগে কেনেন বিনীতা বর্মা নামে এক চিকিৎসকের কাছ থেকে। কিন্তু কণিষ্ক এখনও নিজের নামে সেটির রেজিস্ট্রেশন করাননি বলে অভিযোগ। পুরনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির এক বিক্রেতা সংস্থার কর্ণধার পবন মোরিয়া বলেন, ‘‘নাম পরিবর্তনের কথা বারবার বলা হলেও কণিষ্ক বলেছেন, ‘আমাকে গাড়ির কাগজপত্র দিয়ে দিন। বাকিটা আমি বুঝে নেব’।’’
বারবার ফোন করা হলেও কণিষ্কের মোবাইল সাড়া দেয়নি। এসএমএস করেও উত্তর মেলেনি। টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্রের দাবি, ‘‘কণিষ্ক আদৌ আমাদের সংগঠনের পদাধিকারী নন। ওই ঘটনায় টিএমসিপির প্রসঙ্গ কেন আসছে, বুঝে উঠতে পারছি না।’’