রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে টানাপড়েন পুরসভা-দমকলে

খোদ দমকলের সদর দফতরেই এ বার বিগ ডায়া টিউবওয়েল বসাতে চলেছে কলকাতা পুরসভা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:৪৩
Share:

দমকলের সদর দফতর। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য

খোদ দমকলের সদর দফতরেই এ বার বিগ ডায়া টিউবওয়েল বসাতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। যদিও সেটির দেখভালের দায়িত্ব কার, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে টালবাহানা। কারণ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে যেতে পারে ওই বিগ ডায়া টিউবওয়েল, মানছেন দমকল এবং পুরসভার কর্তারাই।

Advertisement

পুরসভা সূত্রের খবর, অগ্নি-নির্বাপণের জন্য দমকলের গাড়িগুলি যাতে সহজে জল সংগ্রহ করতে পারে, তাই ওখানে টিউবওয়েল (ফায়ার স্পাউট লাইন) বসানো হচ্ছে। পুর প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, অগ্নি-নির্বাপণে প্রয়োজনীয় জলের জোগান পেতে পুরসভা নিয়ম করে বিভিন্ন জায়গায় বিগ ডায়া টিউবওয়েল বসায়, তবে সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকে দমকলের উপরে। এ দিকে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেগুলি যদি পরীক্ষা না করা হয়, তা হলে বসিয়ে কতটা লাভ, তা নিয়ে সংশয় থাকেই। কিন্তু ‘ফায়ার স্পাউট লাইন’ দেখভালের দায়িত্ব কার, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ঠেলাঠেলি।

পুরসভা সূত্রের খবর, ফ্রি-স্কুল স্ট্রিটে দমকলের সদর দফতরে বিগ ডায়া টিউবওয়েল বসাতে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা খরচ হবে। পুর আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, সারা শহরে প্রায় ৮০টি এমন টিউবওয়েল রয়েছে। অনেক সময়ে সেগুলি ঠিক মতো কাজ করছে না বলে অভিযোগ শোনা যায়। তার কারণ হিসেবে তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত সেগুলি পরীক্ষা করা হয় না। ওই ‘ফায়ার স্পাউট লাইন’-এর একটি চাবি পুরসভার কাছে থাকে। অন্যটি থাকে দমকলের কাছে। টিউবওয়েল বসানোর পরে তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দমকলকে দেয় পুরসভা। কিন্তু সেগুলি যদি মাসে একবারও পরীক্ষা না করা হয়, তা হলে ত্রুটি থাকছে কি না, তা বোঝা সম্ভব হয় না। এক পুরকর্তার কথায়, ‘‘ফায়ার স্পাউটগুলিতে কোনও ত্রুটি থাকছে কি না, তা বুঝতে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। সেটা তো আর পুরসভা করে দেবে না।’’

Advertisement

দমকল দফতরের আধিকারিকদের মতে, এটা শুধুই তাঁদের দায়িত্ব নয়, এটা যৌথ ভাবে পরীক্ষা করার কাজ। দমকল তো দেখবেই, পুরসভাও এটা পরীক্ষা করে দেখতে পারে। সেই কারণে একটা চাবি পুরসভার কাছেও থাকে। কিন্তু অনেক সময়ই পরীক্ষা করা হয় না। দমকলের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘এটা দেখা অবশ্যই দরকার। না হলে অচল হওয়ার আশঙ্কা তো থাকেই। কিন্তু দমকলের এত কর্মী নেই যে প্রতি মাসে সব লাইন দেখতে পারবেন। এটা পুরসভাও তো পরীক্ষা করে দেখতে পারে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement