ওয়েভারলি জুটমিল বন্ধ হল।
পুরভোট শেষ হতেই একের পর এক চটকলে কাজ বন্ধের হিড়িক পড়েছে গঙ্গার দুই পারের শিল্পাঞ্চলে।
সোমবার সকালে কাজ বন্ধের বিজ্ঞপ্তি পড়ল নৈহাটির নদিয়া এবং শ্যামনগরের ওয়েভারলি চটকলে। এই নিয়ে ব্যারাকপুর ও হুগলি শিল্পাঞ্চলে গত ১১ দিনে একই দশা হল ১১টি চটকলে। বিপাকে পড়লেন প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক।
চটকলগুলিতে কাজ বন্ধের পিছনে ঘোষিত কারণ যা-ই থাক, চটের বস্তার চাহিদা না থাকায় জোগান যে কমছে, সে কথা মানছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই। চটকল কর্তৃপক্ষও লাভের মাত্রা কমার আশঙ্কায় শ্রমদিবস কমিয়ে উৎপাদন জারি রাখার চেষ্টা করছেন। প্রতি ক্ষেত্রেই শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হচ্ছে এই কারণে। তার উপর বকেয়া বেতন, প্রাপ্য না পাওয়ার অভিযোগ তো আছেই। এ ভাবে একের পর এক চটকল বন্ধ হতে থাকায় শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
গত কয়েক বছরে একাধিকবার বন্ধ হয়েছিল নদিয়া চটকল। সোমবার সেখানে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করেছেন বলে দাবি করেছেন চটকল কর্তৃপক্ষ। প্রাপ্য বেতনের বিনিময়ে কাজের নির্ধারিত সময় ও উৎপাদনের মাপ মানতে চাইছেন না কর্তৃপক্ষ, উল্টে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে— এই অভিযোগে চটকল শ্রমিকেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। যার জেরে চটকলে কাজ বন্ধের (সাসপেনশন অব ওয়ার্ক) বিজ্ঞপ্তি ঝুলেছে। ওয়েভারলিতেও চাহিদা না থাক-সহ লোকসান, শ্রমিক সমস্যা এমন বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কাজ বন্ধের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
নৈহাটি নদিয়া জুটমিলে বন্ধ হওয়া মেশিন।
এ দিনের এই দু’টি চটকল মিলিয়ে সাত হাজার শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। ভাটপাড়ার তৃমমূল বিধায়ক তথা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের চটকলগুলির আইএনটিটিইউসি নেতা অর্জুন সিংহ বলেন, ‘‘সত্যিই অবস্থাটা খুব উদ্বেগের। আচমকা কাজ হারালে শ্রমিক অসন্তোষ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কেন্দ্র সরকারের ভ্রান্ত নীতির ফলে চটশিল্প মুখ থুবড়ে পড়ছে।’’ শিল্পাঞ্চলের কংগ্রেস নেতা সম্রাট তপাদার বলেন, ‘‘তৃণমূল সাংসদেরা এখানে শ্রমিক দরদের নাটক না করে সংসদে কি একবারও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন?’’ শ্রমিক সংগঠনগুলিকে একজোট হয়ে আন্দোলন করার ডাক দিয়েছে সিটু। সিটুর রাজ্য কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রোমোটারির থাবা পড়েছে চটকলগুলিতে। যে শিল্পটার জন্য গঙ্গাপারের দুই শিল্পাঞ্চল টিঁকে রয়েছে, সেই চট শিল্পকে ধ্বংস করছে প্রোমোটারি-রাজ। মালিকেরা একসঙ্গে বেশি মুনাফার লোভে কারখানা গুটিয়ে নিতে চাইছেন।’’
এ দিনের দু’টি চটকল বন্ধের ঘটনাতে সেখানকার কর্তারা সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘যা বলার তা বিজ্ঞপ্তিতেই বলা আছে।’’ দু’টি চটকলেই শ্রমিক বিক্ষোভের আশঙ্কায় পুলিশ পিকেট বসে।
মে দিবসেই কাজ বন্ধ হয়েছিল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের কাঁকিনাড়া এবং নফরচাঁদ চটকলে। তার পরদিন একই পরিস্থিতি হয় হুগলির ভদ্রেশ্বরে ভিক্টোরিয়া চটকলেও।। সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দেন কাঁকিনাড়ার রিল্যায়েন্স চটকলে। একই সঙ্গে বন্ধ বয় নৈহাটি চটকলও। বন্ধ হয়েছে ভদ্রেশ্বরের আরেকটি চটকল শ্যামনগর নর্থ। সেই তালিকাতেই এ বার যুক্ত হল নদিয়া এবং ওয়েভারলি।
—নিজস্ব চিত্র।