ED in Sona Pappu Case

জয়ের সংস্থা থেকেই স্ত্রীর নামে পিস্তল কিনেছিলেন সোনা পাপ্পু! ইডি-র হাতে ব্যবসায়ীর দেড় কোটির লেনদেনের নথিপত্র

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দাবি, গত জানুয়ারি মাসে স্ত্রীর নামে ওই আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিলেন সোনা পাপ্পু। আগ্নেয়াস্ত্রটি বিক্রি করেছিল তাদের হাতে পাকড়াও হওয়া বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের সংস্থা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১২
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভাল নাম বিশ্বজিৎ পোদ্দার। তবে সে নামে তিনি অতটা পরিচিত নন, যতটা দক্ষিণ কলকাতা তাঁকে চেনে ‘সোনা পাপ্পু’ নামে। কিছু দিন আগে বালিগঞ্জে একটি গন্ডগোলের পর বেশ কয়েক জনকে পাকড়াও করে পুলিশ। কিন্তু মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর খোঁজ মেলেনি। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি সেভেন এমএম পিস্তল পায় পুলিশ। এখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দাবি, গত জানুয়ারি মাসে স্ত্রীর নামে ওই আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিলেন সোনা পাপ্পু। আগ্নেয়াস্ত্রটি বিক্রি করেছিল তাদের হাতে পাকড়াও হওয়া বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের সংস্থা।

Advertisement

জয় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে তাঁর দেড়় কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। সোনা পাপ্পুর স্ত্রী সোমার নামে থাকা একটি কোম্পানির সঙ্গেও বেহালার ওই প্রোমোটারের অর্থ বিনিময় হয়েছে।

ইডি জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সময় আগ্নেয়াস্ত্র পেয়েছিল গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। আগ্নেয়াস্ত্রের গায়ে লেখা, ‘মেড ইন ইউএসএ’। পুলিশকে সোনা পাপ্পুর স্ত্রী জানিয়েছিলেন, তাঁর নামে কোনও কোম্পানি আছে কি না, তিনি জানেন না। আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়েও তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, বিনা লাইসেন্সের ওই আগ্নেয়াস্ত্র স্ত্রীর নামেই কিনেছিলেন সোনা পাপ্পু। অন্য দিকে, সোনা পাপ্পুর স্ত্রী জানান, স্বামীর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

Advertisement

ইডি জানিয়েছে, বেহালার ব্যবসায়ী জয়ের একটি ‘অফিস’ আছে অশ্বিনী দত্ত রোডে। সেখান গত ১৫ জানুয়ারি একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫০টি কার্তুজ কেনা হয়েছে সোমা পোদ্দারের নামে। যে সংস্থা থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি কেনা, সেটির যৌথ মালিকানা রয়েছে। কোম্পানির অন্যতম অংশীদার জয়। তাঁর সঙ্গে সোনা পাপ্পুর একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। ঠিক কী কারণে ওই লেনদেন, তা অনৈতিক কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

জয় এখন ইডি-র হেফাজতে। রবিবার দীর্ঘ জেরার পর বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সেই গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু আদালতে হাজির করানো যায়নি। গ্রেফতারির পরপরই জয় অসুস্থ বোধ করেন। সল্টলেকে সেবা হাসপাতালে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে আরজি কর মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয় ওই ব্যবসায়ীকে। চিকিৎসকেরা ‘ফিট সার্টিফিকেট’ দেওয়ায় দুপুরে জয়কে নিয়ে ব্যাঙ্কশাল আদালতে যায় ইডি।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement