ক্রেতা সুরক্ষা আদালত

ক্ষতিপূরণ দিন প্রোমোটার, নির্দেশ

ফ্ল্যাট কেনার জন্য ক্রেতার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়েও সময়মতো ফ্ল্যাট দেননি প্রোমোটার। উল্টে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আর এক ব্যক্তিকে সেই ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি।

Advertisement

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৫ ০০:১১
Share:

ফ্ল্যাট কেনার জন্য ক্রেতার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়েও সময়মতো ফ্ল্যাট দেননি প্রোমোটার। উল্টে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আর এক ব্যক্তিকে সেই ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে প্রতারণার দায়ে সেই প্রোমোটারকে ৩৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিল ক্রেতা সুরক্ষা আদালত।

Advertisement

আদালত সূত্রে খবর, যাদবপুরের বাসিন্দা সোমনাথ দাস ২০০৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর যাদবপুর ইস্ট রোডে একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য চৈতালী ঘোষ দস্তিদার নামে এক প্রোমোটারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে ১১৪৮.২৪ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের চাবি সোমনাথবাবুর পাওয়ার কথা। দাম ধার্য হয়েছিল ১৮ লক্ষ ৮২ হাজার ৭২০ টাকা। সোমনাথবাবু প্রথম ন’মাসের মধ্যে চৈতালীদেবীকে ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৮০ টাকা জমা দিয়ে দেন। কিন্তু অভিযোগ, দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও চৈতালীদেবী ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেননি। সোমনাথবাবু বলেন, ‘‘প্রায় পুরো টাকা দেওয়ার পরেও ফ্ল্যাট হাতে না পাওয়ায় চৈতালীদেবীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করি। কিন্তু তিনি আমার কথায় কর্ণপাত করেননি। ফোন ধরতেন না। দেখা করতে গেলে দুর্ব্যবহার করতেন। এর পরই বাধ্য হয়ে ক্রেতা আদালতের দ্বারস্থ হই।’’

২০১২ সালের জুনে সোমনাথবাবু রাজ্য ক্রেতা আদালতে বিজয়গড়ের বাসিন্দা চৈতালী ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলা চলাকালীন আদালতের নির্দেশ ছিল, চৈতালীদেবী কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে ওই ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারবেন না। অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই ২০১৩-এর মার্চে তৃতীয় ব্যক্তিকে ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে দেন চৈতালীদেবী। ৮ অক্টোবর রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের বিচারক সমরেশপ্রসাদ চৌধুরী ও মৃদুলা রায় বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশ অমান্য করে যেভাবে তৃতীয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত প্রোমোটার ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছেন তাতে তাঁর জেল, জরিমানা হওয়া উচিত।’’ ওই দিনই আদালত সাফ জানায়, ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রোমোটারের হাতে চরম হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ক্রেতা সোমনাথ দাস। ওই দুই বিচারক আরও জানান, প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক জনের থেকে মোটা টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট অন্যকে বিক্রি করার অর্থ ওই প্রোমোটার ঔদ্ধত্য, ছলনা ও বড় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। বিচারকদের রায় অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে চৈতালীদেবীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৩ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে।

Advertisement

যদিও সোমনাথ দাস বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশমতো প্রোমোটারের থেকে এখনও ক্ষতিপূরণের টাকা পাইনি।’’ অভিযোগকারীর আইনজীবী প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সময় মতো ক্ষতিপূরণ না দিলে অভিযুক্ত প্রোমোটারের বিরুদ্ধে ক্রেতা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ অভিযুক্ত প্রোমোটার চৈতালী ঘোষ দস্তিদারকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি। মেলেনি এসএমএস-এর উত্তরও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement