থিমের চাহিদা বাড়ছে কালীপুজোর মণ্ডপেও

গত কয়েক বছরেই ধরা পড়েছে এই বদল। দুর্গাপুজোর ধাঁচে শহরের অলিগলিতে গজিয়ে উঠছে কালীপুজোর ‘থিম’। বাঁশদ্রোণী মিতালি সঙ্ঘে এ বার মিলবে জঙ্গলমহলের বাঁশের কাজ, হাওড়া কদমতলা সিটিএসসি ক্লাব থিমে তুলে এনেছে রাহুলদেব বর্মনকে!

Advertisement

কুন্তক চট্টোপাধ্যায় ও মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৫ ০০:৫৫
Share:

বাজি বাজার পরিদর্শনে সিপি। শনিবার। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য

দুর্গাপুজোয় শহরে থিমের বাহার নতুন কিছু নয়। এ বার সেই ছোঁয়া লেগেছে কলকাতার কালীপুজোতেও!

Advertisement

গত কয়েক বছরেই ধরা পড়েছে এই বদল। দুর্গাপুজোর ধাঁচে শহরের অলিগলিতে গজিয়ে উঠছে কালীপুজোর ‘থিম’। বাঁশদ্রোণী মিতালি সঙ্ঘে এ বার মিলবে জঙ্গলমহলের বাঁশের কাজ, হাওড়া কদমতলা সিটিএসসি ক্লাব থিমে তুলে এনেছে রাহুলদেব বর্মনকে! কালীঘাট কদমতলা ইউনাইটেড ক্লাবে পরিবেশ রক্ষার থিমে থাকছে ‘পাখি’।

পুজোকর্তারা বলছেন, থিম চালু হওয়ায় দুর্গাপুজোর ভোল বদলে গিয়েছে। স্পনসর হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে বড় কর্পোরেট সংস্থাকে। শারদোৎসবের এই চেহারাই কালীপুজো কমিটিগুলিকে থিমের দিকে টানছে বলে মনে করছেন নামী দুর্গাপুজোর কর্তারা। কিছু কিছু কালীপুজোর কর্তাও মেনে নিয়েছেন এই তত্ত্ব। উদ্যোক্তাদের অনেকে বলছেন, দর্শক টানতে ‘থিম’ জরুরি। তাই কোথাও কোথাও দুর্গাপুজোর ধাঁচেই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। যেমন এ বছর দুর্গাপুজোয় জঙ্গলমহলের শিল্প, মধুবনী শিল্প, বাংলার তাঁতকে থিম হিসেবে বেছেছিল কিছু ক্লাব। সেই ধাঁচেই বেহালার অভ্যুদয়ে মধুবনী শিল্প, বিরাটির অগ্রদূত সঙ্ঘের মণ্ডপে তাঁতের কাজ। হাওড়ার ব্যাঁটরা রথতলায় কালীমণ্ডপে মিলবে পুরুলিয়ার গ্রাম। কন্যাশ্রী, নারীশক্তির মতো থিমও দেখা যাবে বিভিন্ন পুজোয়। সন্তোষপুর লেক সংগঠনী ক্লাবের মণ্ডপ সাজাতে ক্যারমের ঘুঁটি, স্ট্রাইকার ব্যবহারের বুদ্ধি দিয়েছেন এলাকার একটি নামী দুর্গাপুজোর কর্তা।

Advertisement

কালীপুজোয় দেখা মিলবে দুর্গাপুজোয় নজর কাড়া শিল্পীদেরও। বাগুইআটি কলেজ মোড়ের কাছে একটি মণ্ডপ সাজাচ্ছেন শিল্পী অনির্বাণ দাস। রাজারহাটের লালকুঠি নেতাজি সঙ্ঘে ‘রূপকথার দেশ’ গড়ছেন শিল্পী শিবশঙ্কর দাস। কালীপুজোয় থিম বেড়ে যাওয়ার কথা মানছেন কুমোরটুলির শিল্পীরাও। মিন্টু পাল কাশীপুরের তরুণ সঙ্ঘে তুলে আনছেন নেপালের পশুপতি মন্দির।

আবার সাবেকিয়ানা আঁকড়ে রেখেছে আমহার্স্ট স্ট্রিট, গিরিশ পার্ক, তালতলার কিছু নামী কালীপুজো। সাবেকিয়ানা যে পুরোপুরি চাপা পড়েনি, মেনে নিচ্ছেন কুমোরটুলির কিছু শিল্পীও। বাবু পালের কথায়, ‘‘আগেও ১৪-১৫ ফুট উঁচু সাবেক প্রতিমা গড়তাম। এখনও গড়ি। এ বার তো কিছু পুজো প্রতিমার উচ্চতা আরও বাড়িয়েছে!’’

এ দিকে, শনিবারই উদ্বোধন হয়েছে শহরের বাজি বাজারের। এ দিন শহিদ মিনার ময়দানে তা পরিদর্শনে যান পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ করপুরকায়স্থ-সহ পুলিশকর্তারা। তিনি বলেন, ‘‘শহরে মোট পাঁচটি বাজি বাজার বসেছে। কালীপুজো ও দীপাবলী নিরাপদে কাটাতে আমরা মানুষের সহযোগিতা চাই।’’ সারা বাংলা আতসবাজি উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান বাবলা রায় বলেন, ‘‘বাজির শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেল হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। তবু এই শিল্পকে বাঁচাতে মেলা করা হচ্ছে।’’

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ শব্দবাজি নিষিদ্ধ করায় পুলিশি ধরপাকড় চলছে। শুক্রবার এয়ারপোর্ট থানা এলাকা থেকে ৩০০ কেজি ও বাগুইআটি থানা এলাকা থেকে ১৫০ কেজি শব্দবাজি আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে দু’জন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement