আক্রান্ত পুলিশকর্মী আশ্রয় নিয়েছেন ভাঙচুর হওয়া কিয়স্কে। শুক্রবার বেলগাছিয়ায় স্বাতী চক্রবর্তীর তোলা ছবি।
একটি দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় বেলগাছিয়ার মিল্ক কলোনি এলাকায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায়। বিক্ষোভ, পথ অবরোধ হয়। আক্রান্ত হয় পুলিশও। তাদের দু’টি গাড়িতে ভাঙচুর চলে। জনতার মারধরে জখম হন দুই পুলিশকর্মী। যানজটে আটকে পড়েন অসংখ্য ঘরমুখো মানুষ। অন্য রাস্তায় যানবাহন ঘুরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, সাহেব আলি ওরফে ছোটু (২৫) নামে এক যুবক সাইকেলে যাচ্ছিলেন। মিল্ক কলোনি মোড়ের কাছে একটি ম্যাটাডর ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁকে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে ছোটুকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তার পরেই মিল্ক কলোনি এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। আর জি কর থেকে পাতিপুকুর আন্ডারপাস পর্যন্ত যশোহর রোড বন্ধ থাকায় ওই এলাকায় ব্যাপক যানজট হয়।
মহম্মদ রাজু নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “সন্ধ্যা ৮টা নাগাদ বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ দেখি, একটা ভ্যান প্রচণ্ড গতিতে এসে ব্রেক কষল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি দ্রুত পালিয়ে যায়। আমরা হতচকিত হয়ে দেখলাম, একটা সাইকেল রাস্তায় দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে। রক্তাক্ত এক যুবক রাস্তায় পড়ে আছেন।” স্থানীয় বাসিন্দারাই ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ছোটুর বাড়ি দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই বেলগাছিয়া এলাকায়। দুর্ঘটনার খবর শুনেই তাঁর পাড়ার লোকজন যশোহর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে গেলে ক্ষিপ্ত জনতা তাদের লক্ষ করে ইট ছুড়তে থাকে বলে অভিযোগ। এক ট্রাফিক সার্জেন্ট ও এক জন এসআই-কে পেটানো হয়। জখম অবস্থায় তাঁদের পাঠানো হয় হাসপাতালে। পুলিশের দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তার পরেই র্যাফ নামে।
স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মালা সাহা ঘটনাস্থলে আসেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিল্ক কলোনির মোড়ে স্পিডব্রেকার না-থাকায় গাড়ি ছোটে খুব দ্রুত। মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ সব সময় থাকে না। ট্রাফিক কর্মী না-থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। তারা জানায়, স্পিডব্রেকার না-থাকলেও রাস্তার মাঝখানে ব্যারিকেড দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পুলিশ এ দিন ভ্যানটিকে পরীক্ষা করতে এগিয়ে গেলে চালক গতি বাড়িয়ে দেয়। তখনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারে। পুলিশ ঘাতক ভ্যানকে ধরতে পারেনি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।