ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষাকে ফের ঘেরাও করলেন পড়ুয়ারা। রীতেশ জায়সবালের মৃত্যুতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি সৌরভ চক্রবর্তী ও বিকাশ কুমারের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই তাঁরা অধ্যক্ষ মঞ্জুশ্রী রায়ের ঘরের বাইরে অবস্থানে বসেন।
১৩ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে ন্যাশনালে ভর্তি হন ওই কলেজেরই চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রীতেশ। কিন্তু কোনও সিনিয়র চিকিৎসককে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। সেই রাতে সার্জারি বিভাগে ডিউটিতে ছিলেন রেসিডেন্সিয়াল সার্জন সুমন দাস ও দুই পিজিটি সৌরভ ও বিকাশ। অভিযোগ, তাঁদের গাফিলতিতেই কার্যত বিনা চিকিৎসায় সোমবার মৃত্যু হয় রীতেশের। এর পরেই সুমন দাসকে বরখাস্ত করা হয় এবং সৌরভ ও বিকাশকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয় রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়কে।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, সুমনবাবুকে বরখাস্ত করা হলেও ওই দুই পিজিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি পড়ুয়াদের আরও দাবি, ওই রাতে যেহেতু সার্জারি বিভাগের এক নম্বর ইউনিটে ঘটনাটি ঘটে, তাই ওই বিভাগের প্রধান কাজী মহম্মদ রহমানের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁরা বলেন, ‘‘যতক্ষণ না দাবি মানা হচ্ছে, অনির্দিষ্টকালীন অবস্থান চলবে।’’
পড়ুয়াদের দাবি, দুই পিজিটি-র শাস্তির বিষয়ে অধ্যক্ষা পদক্ষেপ না করে দায় ঝেড়ে ফেলছেন স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাড়ে। আন্দোলনকারী পড়ুয়া সানি পাত্র জানান, শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে অধ্যক্ষার এই টালবাহানা দেখেই স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবতোষ বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তাঁরা। ভবতোষবাবু জানান, কলেজের শিক্ষা ছাড়া অন্য বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন না। সানি বলেন, ‘‘উপাচার্য বলেছেন এ ব্যাপারে যা করার অধ্যক্ষাই করবেন।’’
যদিও ভবতোষবাবু এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। পড়ুয়াদের অনির্দিষ্টকালীন অবস্থানের কথা শুনে মঞ্জুশ্রী রায় বলেন, ‘‘সবার জন্য দরজা খোলা। ওরা কথা বলুক। আলোচনার মাধ্যমে সব কিছুর সমাধান সম্ভব।’’