বস্তিবাসীদের নতুন ফ্ল্যাট

শাড়ি-জামা তো আছেই, এ বার পুজোর মুখে একটি করে ফ্ল্যাটও পেলেন বস্তিবাসীরা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে উল্টোডাঙা-কাঁকুড়গাছি রেল লাইনের পাশে ওই ফ্ল্যাটগুলি গড়ে তুলেছে কলকাতা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (কেআইটি)।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৩২
Share:

শাড়ি-জামা তো আছেই, এ বার পুজোর মুখে একটি করে ফ্ল্যাটও পেলেন বস্তিবাসীরা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে উল্টোডাঙা-কাঁকুড়গাছি রেল লাইনের পাশে ওই ফ্ল্যাটগুলি গড়ে তুলেছে কলকাতা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (কেআইটি)। আর বস্তিবাসীদের হাতে সেগুলি তুলে দিতে সোমবার, মহালয়ার দিনটি বেছে নিয়েছিল প্রশাসন। এ দিন বিকেলে এলাকার ২২০টি পরিবারের হাতে চাবি তুলে দেন ক্রেতাসুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে। হাজির ছিলেন পুরসভার ৩ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান অনিন্দ্যকিশোর রাউত, ২ নম্বর বরো চেয়ারম্যান সাধন সাহা এবং স্থানীয় পুরপিতা শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু।

Advertisement

কেআইটি সূত্রে খবর, রেল লাইনের পাশের বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য ২০১০ সালে জেএনএনইউআরএম প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ করে কেন্দ্র। জমি দেয় কেআইটি। কিন্তু নানা সমস্যায় কাজ আটকে যায়। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলে ফের ওই উদ্যোগ শুরু হয়। মন্ত্রী সাধনবাবু জানান, বিএসইউপি-র (বেসিক সার্ভিস ফর আরবান পুওর) আর্থিক সহায়তায় ওই প্রকল্প গড়ার কাজ নেওয়া হয়। ২০১৪-র মাঝামাঝিতে শুরু হয় কাজ। প্রথম দফায় ২২০টি ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় আরও ৫৬০টি ফ্ল্যাট হবে বলে জানান তিনি।

সাধনবাবু বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা শহরকে সাজানোর যে পরিকল্পনা নিয়েছেন এ তারই অঙ্গ। বস্তিবাসীদের পাকা বাড়ি দিয়ে তাঁদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে চাইছে সরকার।’’ তিনি জানান, এই এলাকায় বস্তি থাকবে না। নতুন ৫৬০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১০০টির কাজ শেষ। নভেম্বরের শেষে সেগুলি তুলে দেওয়া হবে বাসিন্দাদের হাতে। বাকি ৪৬০টি গড়ার জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন। এ দিকে, জেএনএনইউআরএম প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান সাধনবাবু।

Advertisement

কেআইটি-র চিফ ইঞ্জিনিয়ার সাধন চট্টোপাধ্যায় জানান, ফ্ল্যাট তৈরির সময়ে বস্তিবাসীদের জন্য পাশেই একটি মাঠে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখন প্রত্যেককে ফ্ল্যাটে চলে যেতে বলা হয়েছে। দু’তিন দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ এলেই সেখানে চলে যাবেন বলে জানালেন বাসিন্দারাও। এ দিন চাবি বণ্টনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের হাত থেকে ফ্ল্যাটের চাবি পেয়ে খুব খুশি বস্তিবাসী আরতি দাস, অঞ্জলী বসাক, আলো রায়েরা। বললেন, ‘‘এ বার পুজোয় নতুন স্বাদ পেলাম।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement