মনে মনে নয়, বাঙালি মধ্যবিত্ত এখন সত্যিই বেড়াচ্ছে মিশরে জাপানে

শীত আসছে। বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে উস্কে দিতে কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছে ভ্রমণ সংস্থাগুলো। বছর শেষ হওয়ার মাস দেড় আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছে তাদের আগামী গোটা বছরের সফরসূচি। প্রস্তুতি চলছে ভ্রমণপিয়াসুদেরও।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৫ ২১:১৫
Share:

শীত আসছে। বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে উস্কে দিতে কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছে ভ্রমণ সংস্থাগুলো। বছর শেষ হওয়ার মাস দেড় আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছে তাদের আগামী গোটা বছরের সফরসূচি। প্রস্তুতি চলছে ভ্রমণপিয়াসুদেরও।

Advertisement

দু-এক প্রজন্ম আগে রূপকথার দেশ বেড়িয়ে আসা লোক ছিল হাতেগোনা, গল্পের বিষয়। দিঘা-পুরি, নিদেনপক্ষে কাশ্মীর, লাদাখ, দক্ষিণ ভারতই ছিল গড় বাঙালির বেড়ানোর জায়গা। এখন অবস্থা বদলে গিয়েছে। ছেলেবেলা থেকে পড়া মিশরের মমি, স্ফিংস, তুতেনখামেনের সমাধি দেখে এসেছেন— কেবল কলকাতাতেই সে রকম পর্যটকের সংখ্যা কয়েক হাজার। আর তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শুনেও বেড়ানোর সাধ উথলে উঠেছে বা উঠছে অনেকের। বছর সাত আগেও এ শহর থেকে মিশরে নিয়ে যাওয়ার পর্যটক সংস্থা ছিল দু একটা। এখন অন্তত গোটা আট সংস্থা যাচ্ছে মিশরে। এভাবেই বেড়েছে, বাড়ছে ইওরোপ, মার্কিন মুলুক, চিন, শ্রীলঙ্কা, দূর প্রাচ্য নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছুকের সংখ্যা। বাড়ছে তাদের স্বপ্ন চরিতার্থ করার সংস্থাও।

খদ্দের নিয়ে প্রতিযোগিতার সুফল নিতে সতর্ক হয়ে উঠছেন পর্যটকরাও। সিঙ্গাপুরের পাঁচ দশক পূর্তি উপলক্ষে হাতছানি দিচ্ছে সেদেশের সরকার। কলকাতা থেকে পাঁচ দিনে সেখানে যাতায়ত মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা। শ্রীলঙ্কা ঘুরে আসা যাচ্ছে মাথাপিছু ৩৮ হাজার টাকায়। পাঁচ দিনে ব্যাঙ্কক-পাট্টায়া আরও কম— ২২ হাজার টাকা। হ্যাঁ, সব খরচ নিয়েই। পায়ের তলায় যাঁদের সর্ষে এ সব দেখে তাঁদের কেউ ভাবছেন, ৯ দিনে ভিয়েতনাম-কাম্বোডিয়া ঘুরে আসা যায় কী না— আঙ্কোরভাট, আঙ্কোরধাম, হো চি মিন আর সুভাষচন্দ্রের স্মৃতিজড়ানো শহর, লোভ সংবরণে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। কেউ কেউ ভাবছেন, ভিয়েতনাম-কাম্বোডিয়া না ইন্দোনেশিয়া!

Advertisement

মাইকেল মধুসূদনের কপোতাক্ষ, রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহ, জীবনানন্দের নাটোর— স্মৃতিমেদুরতা উস্কে দিয়ে ডাকছে বাংলাদেশও। দেশে-বিদেশে বেড়ানোর তালিকা অসম্ভব দীর্ঘ অবসরপ্রাপ্ত আমলা অমরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঘুরে এলেন জাপানের বেশ ক’টি শহর। তাঁর কথায়, ‘‘সাত দশক পূর্ণ হল হিরোসিমা-নাগাসাকির সেই ভয়াবহ ঘটনার। কাছ থেকে দেখলাম এ সব।’’ এ রকমই আর একজন ভ্রমণপাগল শালকিয়ার মঞ্জুশ্রী শিকদার। শীতে তাঁর যাওয়ার ইচ্ছে এ দেশেই বুদ্ধদেবের স্মৃতিবিজরিত নানা স্থান ‘বুদ্ধ সার্কিটে’। ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ারম্যান অনিল পঞ্জাবি জানান, ‘‘গত ক’বছরে ইওরোপের যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বেড়েছে।’’

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ভারতের নানা রাজ্যের পর্যটন দফতরও। তারা বৈঠক করছে নানা ভ্রমণসংস্থার সঙ্গে। সব মিলিয়ে পর্যটক বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে কাজের সুযোগও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement