সিসিটিভি, লন্ডনের পথে আর এক ধাপ

ভাবনাটা এসেছিল লন্ডন দেখে। কিন্তু সেই মতো পুরোদমে মাঠে নামতে অনেক বছর গড়িয়ে গেল। স্রেফ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ই নয় লন্ডনের ধাঁচে এ বার মেজ-সেজ রাস্তা, অলি-গলিও সিসিটিভির নজরদারিতে আনতে চায় পুলিশ। এই উদ্যোগ সফল করতে পুলিশের ভরসা নাগরিকেরাই। ইতিমধ্যেই পথ দেখিয়েছে আলিপুর ও বড়বাজার। এগিয়ে আসছে পার্ক স্ট্রিট-ক্যামাক স্ট্রিটও।

Advertisement

ঋজু বসু

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৪ ০০:৪৭
Share:

ভাবনাটা এসেছিল লন্ডন দেখে। কিন্তু সেই মতো পুরোদমে মাঠে নামতে অনেক বছর গড়িয়ে গেল।

Advertisement

স্রেফ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ই নয় লন্ডনের ধাঁচে এ বার মেজ-সেজ রাস্তা, অলি-গলিও সিসিটিভির নজরদারিতে আনতে চায় পুলিশ। এই উদ্যোগ সফল করতে পুলিশের ভরসা নাগরিকেরাই।

ইতিমধ্যেই পথ দেখিয়েছে আলিপুর ও বড়বাজার। এগিয়ে আসছে পার্ক স্ট্রিট-ক্যামাক স্ট্রিটও। বেশ কিছু থানা এলাকায় সিসিটিভির নজরদারি কায়েম করতে চায় পুলিশ। এই পরিকল্পনা সফল করতে এ সব এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

শহর জুড়ে সিসিটিভির নজরদারির গুরুত্ব নিয়ে পুলিশের চোখ খোলার সময়ে অবশ্য নাগরিকদের মধ্যে অনেকটাই দ্বিধা ছিল। তখন সদ্য লন্ডনের টিউবে বিস্ফোরণ হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপ ধরা পড়ে গিয়েছিল সিসিটিভির চোখে। এ দেশে মুম্বই, দিল্লি, আমদাবাদ, বেঙ্গালুরুতে বিস্ফোরণের জেরেও সিসিটিভির নজরদারির দাওয়াই শিরোধার্য করেন লালবাজারের কর্তারা। কিন্তু নাগরিকদের এ বিষয়ে তখনই সচেতন করা যায়নি।

পুলিশের লক্ষ্য ছিল, প্রধানত জনবহুল স্থানগুলোয় সিসিটিভির বন্দোবস্ত করা। বিভিন্ন শপিং মল কর্তৃপক্ষ বা হোটেল-মালিকদের এ নিয়ে অনুরোধ করে পুলিশ। কিন্তু কলকাতার বেশির ভাগ শপিং মল, বাজারের ব্যবসায়ীরা একমত হচ্ছিলেন না। এখন ছবিটা পাল্টেছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রেই এলাকার দোকান-মালিকেরা নিজে থেকেই পুলিশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

লালবাজারের এক কর্তার কথায়, “শহরের সব রাস্তায় সিসিটিভি বসানোর মতো টাকার জোর পুলিশের নেই। কোনও সরকারের পক্ষেই শহর জুড়ে সিসিটিভি-তে ছয়লাপ করা সহজ নয়। তবে সম্পন্ন নাগরিকেরা নিজেদের কথা ভেবে এগিয়ে এলে, চিন্তার কিছু থাকে না।” প্রধানত, নাগরিকদের চেষ্টাতেই ছবিটা বদলেছে আলিপুর, বড়বাজারে। দেবেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ কলকাতার সাউথ ডিভিশনের ডিসি থাকাকালীন আলিপুরে ক্যামেরা বসানো শুরু হয়। এখন শতাধিক ক্যামেরা ও থানার নিজস্ব কন্ট্রোলরুম সেখানে সক্রিয়। বড়বাজারেও বেশ কয়েকটি ক্যামেরা আছে। এক পুলিশকর্তার কথায়, “এতে অপরাধের কিনারাও সহজে হচ্ছে।”

যেমন ব্রেবোর্ন রোডে মাস ছয়েক আগে ভরসন্ধেয় এক ফল-ব্যবসায়ীকে খুনের পরে সিসিটিভির ফুটেজ ঘেঁটেই আততায়ীদের বিষয়ে প্রথম সূত্র মেলে। আলিপুরের এক মহিলার বাড়ি থেকে ডলার চুরির কিনারাও করে সিসিটিভিই। রবীন্দ্র সরণি, ক্লাইভ রোয়ে একাধিক লুঠের ঘটনার তদন্তে পুলিশকে উতরে দিয়েছে সিসিটিভির ফুটেজই।

এ বার পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিটের ছবিটাও পাল্টাতে চলেছে। একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার কর্ণধার সঞ্জয় জৈন উদ্যোগী হয়েছেন, শতাধিক সিসিটিভি বসাতে। তিনি বলেন, “ওই তল্লাটের রেস্তোরাঁ, শাড়ি-গয়নার দোকান ইত্যাদির সঙ্গে কথা বলেছি। বুঝিয়েছি, শুধু দোকানে বা অফিসের বাইরে নয় লাগোয়া রাস্তায় সিসিটিভি থাকা সমান জরুরি।” পার্ক স্ট্রিটের পাঁচতারা হোটেলও এলাকায় সিসিটিভি বসাচ্ছে।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যে ক্যামেরা বসানো, তা প্রধানত ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হয়। কিন্তু থানা এলাকা জুড়ে ফুটপাথে-ফুটপাথে যে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, তার উপযোগিতা আলাদা। পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরানো যাবে এমন ক্যামেরাই বসছে। তাতে রাতে নজরদারির নাইট ভিশন ও ছবি জুম করার ব্যবস্থা থাকছে। ডিসি (সাউথ) মুরলীধর শর্মার আশা, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিটে সিসিটিভি চালু হয়ে যাবে। পাশাপাশি, সিসিটিভি বসানোর চেষ্টা চলছে বৌবাজার, মুচিপাড়াতেও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement