পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সিটুর সমাবেশে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ব্যান্ডেলে। ফাইল চিত্র।
রেল হকার উচ্ছেদের ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না, এই দাবিতে সিটু অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের বিভিন্ন জেলা কমিটির ডাকে সোমবার ব্যান্ডেল, মধ্যমগ্রাম, কোন্নগর, জগদ্দল, হালিশহর, নবদ্বীপ ধাম-সহ রাজ্যের নানা স্টেশন চত্বরে প্রতিবাদ মিছিল, সভা, সমাবেশ হয়েছে। বিজেপি সূত্রে অবশ্য বক্তব্য, আইন মেনেই যা হওয়ার হচ্ছে।
ব্যান্ডেলের সমাবেশে যোগ দিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “রেল কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। সাধারণ মানুষের টাকায় রেল চলে। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না। এত দিন ধরে হকারেরা ব্যবসা করলেন কী ভাবে? আইনের মধ্যে তাঁদের নিয়ে আসার ব্যবস্থা হোক।” তাঁর সংযোজন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পরে, দেশের বিজেপি সরকার রেলকে ব্যবহার করে গরিব মানুষের উপরে বুলডোজ়ার চালাচ্ছে।” ব্যান্ডেলে তাঁদের মিছিল পুলিশ আটকে দেয় বলে অভিযোগ সিটু নেতৃত্বের। এই নিয়ে দু’পক্ষে বচসাও বাধে।
আগাম নোটিস ছাড়া রেল কর্তৃপক্ষ বিশাল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে জগদ্দল স্টেশনে হকার উচ্ছেদ ও রেল-বস্তি ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছে সিটু। সংগঠনের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হকারদের একাংশ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। দু’পক্ষে বচসাও বাধে। আপাতত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে রেল। পাশাপাশি, মধ্যমগ্রাম স্টেশনে হওয়া প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা। বক্তৃতা করেছেন গার্গী, এআইসিসিটিইউ-র পরিতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যেরা। মধ্যমগ্রামে, কোন্নগর-সহ নানা স্টেশনে সিটু এবং রেলপথ হকার্স ইউনিয়ন উলুবেড়িয়াতে আরপিএফের কাছে দাবিপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে আজ, মঙ্গলবার দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে কংগ্রেসও।
এরই মধ্যে রাজ্যে নতুন সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ অনুযায়ী যে নির্দেশিকা দিয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে কুরবানির সময়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ‘ভীতি’র পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে সিপিআই। আইনের প্রয়োগে ক্ষেত্রে রাজ্যে যাতে স্থিতাবস্থা বজায় থাকে, সেই দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মহকুমা স্তরে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে দাবিপত্র দিয়েছে সিপিআই। তাদের আরও বক্তব্য, সরকারি নির্দেশের ফলে হিন্দু পশুপালকেরাও সমস্যায় পড়ছেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে