জোট অটুট থাকুক, বার্তা দিলেন সনিয়াও

রাহুল গাঁধীর পরে এ বার সনিয়া গাঁধীও। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে বামেদের সঙ্গে জোট বজায় রেখেই এখন কংগ্রেস কাজ করুক, এই মতের পক্ষেই সায় দিলেন দলের সভানেত্রী।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০১৬ ০৩:৫০
Share:

রাহুল গাঁধীর পরে এ বার সনিয়া গাঁধীও। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে বামেদের সঙ্গে জোট বজায় রেখেই এখন কংগ্রেস কাজ করুক, এই মতের পক্ষেই সায় দিলেন দলের সভানেত্রী। এ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হওয়ার পরে আব্দুল মান্নান সোমবার ১০, জনপথে গিয়েছিলেন সভানেত্রীর পরামর্শ নিতে। মান্নানের দাবি, বাংলায় অধীর চৌধুরীরা যে পথে চলছেন, তার পাশেই দাঁড়িয়েছেন সনিয়া। সেই সঙ্গেই বিরোধী দলনেতার প্রতি সনিয়ার বার্তা, বিধানসভায় গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

Advertisement

বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, সিপিএমের সঙ্গে জোট করে জাতীয় রাজনীতিতে বিরাট ভুল করেছে কংগ্রেস। তাঁর ওই কথায় কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যে এখনও গুরুত্ব দিতে নারাজ, সনিয়ার বার্তায় তা স্পষ্ট বলেই মান্নানেরা মনে করছেন। এর আগে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধীও ওমপ্রকাশ মিশ্রের মতো প্রদেশ কংগ্রেস নেতাকে জানিয়েছিলেন, বামেদের সঙ্গে জোট করে কোনও ভুল হয়নি। বরং, আরও আগে এই সিদ্ধান্ত নিলে ভোটে ফল ভাল হতো। জোট গড়ার সময়ে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ দাবি করছিলেন, রাহুল সায় দিলেও এই বোঝাপড়ায় সনিয়ার মত নেই! রাজ্যে ভোটের প্রচারে এসে সেই জল্পনা আগেই ভেঙেছিলেন সনিয়া। এ বার তাঁর পরামর্শে স্পষ্ট, আগামী দিনে জোট ধরে রাখাতেও তাঁর সম্মতি রয়েছে। দিল্লিতে আজ, মঙ্গলবার রাহুলের সঙ্গে দেখা করার কথা মান্নানের। কংগ্রেসের আরও কিছু সাংসদ, বিধায়কদেরও আজ রাহুলের দ্বারস্থ হওয়ার কথা।

প্রকাশ কারাট শিবিরের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বঙ্গ সিপিএমও আগামী দিনে জোট ধরে রাখার পক্ষে। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির আসন্ন বৈঠকে সওয়াল করার জন্য রাজ্য সিপিএম নেতৃত্ব প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজ্য কমিটির বৈঠকে আগে জেলায় জেলায় গিয়েও জোটের পক্ষে জোরালো বার্তা দিচ্ছেন দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। কলকাতার পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলার আরও দু’টি বৈঠকে যেমন সূর্যবাবু স্পষ্টই বলেছেন, জোট করার জন্য শাস্তি হলে (কেন্দ্রীয় কমিটিতে) তাঁরা মাথা পেতে নেবেন! কিন্তু এ রাজ্যে জোট ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। রাজ্য সম্পাদকের ব্যাখ্যা, পার্টি কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত ছিল কংগ্রেস এবং বিজেপি থেকে সমদূরত্ব রাখার। আবার কোনও ফ্যাসিবাদী আক্রমণের মুখোমুখি হলে দলের সংশ্লিষ্ট স্থানীয় শাখা তাদের মতো করে কৌশল ঠিক করতে পারবে, এ কথাও পার্টি কংগ্রেসে বলা হয়েছিল। এই রাজ্যে পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়ার কৌশল, যুক্তি দিয়েছেন সূর্যবাবু।

Advertisement

রাজ্যে সূর্যবাবু ও অধীরদের মনোভাবে পরিষ্কার, জোট এখন থাকবে। সনিয়া-রাহুলের সিলমোহর কংগ্রেসের দিক থেকে বিষয়টিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে। কংগ্রেস ও সিপিএম দু’দলের রাজ্য নেতারাই ভোটের ফলাফলের প্রাথমিক বিশ্লেষ়ণে দেখেছেন, জোট না হলে দু’দলই আরও কম আসন পেত। দু’টি দলের একাংশ জোট নিয়ে যা-ই আপত্তি করুক না কেন!

সিপিএমের সঙ্গে জোট গড়ার অন্যতম কারিগর মান্নান সনিয়ার সঙ্গে দেখা করে রাজ্যে নির্বাচনে বিজেপি-তৃণমূলের গোপন বোঝাপড়া, ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগের বিবরণও দিয়েছেন। জোটবদ্ধ হয়েই যে পরিস্থিতির মোকাবিলা হচ্ছে, তা-ও বলেছেন। বিরোধী দলনেতা মান্নানকে কংগ্রেস সভানেত্রীর পরামর্শ, গণতন্ত্রের মন্দির। হিসাবে কোনও ভাবে বিধানসভার মর্যাদা হানি চলবে না। তবে বিরোধী দলনেতা বাছাই হয়ে গেলেও পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান, কংগ্রেস পরিষদীয় দলের উপ-নেতা, মুখ্য সচেতক, সচিব ও কোষাধ্যক্ষ কে হবেন, তার মীমাংসা হয়নি। সনিয়া চান, প্রদেশ সভাপতি অধীরের সঙ্গে বসে মান্নানই এ সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন। কিন্তু কংগ্রেস পরিষদীয় দলে কোন্দল দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় মান্নান আবার পদাধিকারী বাছাইয়ের কাজটা এআইসিসি-কে করার জন্য সনিয়াকে অনুরোধ করেছেন। সভানেত্রী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সি পি জোশীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement