ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চে এসআইআর নিয়ে ছবি আঁকছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘লালগড়ের কথা সব সময় মনে পড়ে। কারণ আমি প্রথম লালগড়ে ছুটে গিয়েছিলাম। নেতাইয়ে সাত জন যখন মারা গিয়েছিল তখনও ছুটে গিয়েছিলাম। লালগড়ে এখন নার্সিং ইনস্টিটিউট তৈরি হয়েছে। লালগড়ের রাস্তাঘাট ভাল হয়েছে। শালবনিতেও সিমেন্ট হাব হচ্ছে। কিন্তু আমি এক দিন লালগড়ে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে জঙ্গলমহলে আটকে দেওয়া হয়। সবই মনে পড়ে।’’
তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্র বলেন, ‘‘দিদি লড়ছেন বাংলার মানুষের জন্য। তিনি বাংলার মানুষের জন্য পথে রয়েছেন। ৩৪ বছরের অপশাসনকে সরিয়ে তিনি বাংলার মানুষকে উদ্ধার করেছেন।’’
বিহারি সমাজের পক্ষ থেকে হরিন্দর সিংহ ধর্নামঞ্চে হাজির হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘যখন যখন সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, দিদি রুখে দাঁড়িয়েছেন। হরিন্দর সিংহের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘বিহারি সমাজের বহু লোকের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। আমি জানি। এই জন্যই প্রত্যেক যোগ্য ভোটারের জন্য লড়াই চালাচ্ছি। ’’
মতুয়া সম্প্রদায়ের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট নবীন বিশ্বাস বলেন, ‘‘অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। মতুয়ারা। আমার পূর্বপুরুষদের কোনও ভোটাধিকার ছিল না। আমরা হরি-গুরুচাঁদের আন্দোলনের ফলে ভোটাধিকার পেয়েছি। যে রাজনৈতিক দল কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন, তারা ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করছি।’’
এশিয়াডের সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ ধর্মতলার মঞ্চে হাজির হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্য আমরা এখানে এসেছি। যে ভাবে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্র সরকার বাংলার মানুষের নাম কাটার চক্রান্ত করছে, সেটা এ রাজ্যের মানুষ কিছুতে মেনে নেবে না। এটা শুধু মানুষের উপর অত্যাচার নয়। পুরো গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। সবাই মিলে দিদির হাত শক্ত করব। ২০২৬-এর নির্বাচন যেন জিততে পারি। আমি তৃণমূলে যোগ দিয়েছি ১৩ দিন হল। প্রথম বার এত বড় মঞ্চে বলতে দেওয়ার যে সুযোগ দিয়েছেন দিদি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’’
আবুল বাশার বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার পৃথিবীতে আসবেন না। মমতার কারণে বাঙালি, ভারতবাসী এবং বিশ্বচরাচর ধন্য হয়েছে। তাঁকে তাঁর কাজ করতে দিন। আমি বলব, কবি হিসাবেও তিনি বড় মাপের কবি। গানের তো তুলনা নেই। যখন তিনি থাকবেন না, তখন তাঁর গান বাজবে বাঙালির ঘরে ঘরে। আমি সাধারণত ভুল করি না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কবিতা ধর্নামঞ্চে পাঠ করছেন সুবোধ সরকার। কবিতাপাঠ শুরুর আগে তিনি বলেন, “ভারতের শ্রেষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সবচেয়ে বড় কারণ, রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের জন্য লড়াই করা। এই ভাবে লড়াই করতে পারেন। রাস্তা থেকে একেবারে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যিনি সাধারণ মানুষের কথা বলেন। সাধারণ মানুষের জন্য একমাত্র ভরসাস্থল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর নিয়ে যে লড়াই, তা ইতিমধ্যে অমরত্ব দাবি করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, এই লড়াই তিনি একেবারে রাস্তা থেকে শুরু করে গোটা ভারতে পৌঁছে দিয়েছেন।”
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে পৌঁছোল মতুয়া সম্প্রদায়ের মিছিল। তাঁদের আসতে দেখে মমতা বলেন, “মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি বড় মিছিল আসছে। আমরা তাঁদের ভোটাধিকার দাবি করছি। মতুয়া, রাজবংশী, হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান— সকল বৈধ ভোটারের জন্য আমরা ভোটাধিকারের দাবি করছি।”
মমতা বলেন, ‘‘এই ছবিটা প্রতীকী। আমাদের শিল্পীরা আঁকছেন।এসআইআরে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, মানে সমস্ত ডেডবডি ভ্যানিশ করে দিয়েছে, সেই জন্য পাশে দুটো মালা রাখা, যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য দিয়ে মালাগুলি রাখা আছে। এটা প্রতীকী। অন্য কিছু নয়।’’
ধর্নামঞ্চে হাতে তুলে নিয়েছেন তুলি। ক্যানভাসে এসআইআর নিয়ে ছবি আঁকছেন মমতা। সেখানে ইংরেজি হরফে লেখা এসআইআর। তার পর মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারকে কটাক্ষ করে লেখেন ‘ভ্যানিশ কুমার’।
ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণব সামাজের দুই প্রতিনিধি এসেছেন মঞ্চে। ব্রাহ্মণ সমাজের প্রেসিডেন্ট ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের চারটি সংগঠন আছে পশ্চিমবঙ্গে। আজকে ব্রাহ্মণ সমাজ মাসে মাসে অনুদান পাচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ২ কোটি মানুষ ব্রাহ্মণ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। সেই দু’কোটি মানুষের ভোট, সেই ভোট নিশ্চিতরূপে দিদির কাছে যাবে। মহান নেত্রী আমাদের অধিকারের জন্য সময় দিয়েছেন।’’
মঙ্গলবার সকালে ধর্নামঞ্চে ‘মঙ্গলদীপ’ গানের সঙ্গে গলা মেলালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
বিজেপিকে ভিতুর দল, কাপুরুষের দল বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সোমবার ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “ভিতুর দল, কাপুুরুষের দল। মানুষ আসছে না। মানুষের সমর্থন নেই।’’
শুক্রবার থেকে কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি শুরু করেছে তৃণমূল। এসআইআর ইস্যুতে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ওই দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার কর্মসূচির চতুর্থ দিনে মমতা জানিয়েছেন, ধর্না চলবে। মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে পড়ল সেই কর্মসূচি।