‘এসআইআর ক্ষতিগ্রস্ত’দের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
সাংবাদিক বৈঠক শেষে মমতা জানান, আবার দিল্লি আসবেন ভোটে জেতার পর। তাঁর কথায়, ‘‘ভোটে জিতে দিল্লি আসব। তখন আপনাদের ভাল মিষ্টি খাওয়াব।’’ তার পরেই কিছুটা রসিকতা করেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘দিল্লির লাড্ডু নয়।’’
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করবে কি তৃণমূল? মমতার স্পষ্ট জানান, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আমরা একাই লড়ি। একাই লড়ব।’’
এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই সরব মমতা এবং তাঁর দল তৃণমূল। তবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আরও ১১টি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে বিজেপি বিরোধী সরকারও রয়েছে। কিন্তু মমতা যে ভাবে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে সরব হয়েছেন, বাকি বিরোধী দলগুলির আওয়াজে ততটা জোর নেই বলে দাবি অনেকের। কেন এসআইআর বিরোধী আন্দোলনে একজোট হতে দেখা যাচ্ছে না? সেই প্রশ্ন এড়িয়েই গেলেন মমতা।
অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, ‘‘আমি তো আবার বলছি, মিডিয়ার সামনে বৈঠক ডাকুন। আমি আসব।’’
মমতার সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার পরে এসআইআর নিয়ে সরব হলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা এসআইআরের বিরোধী নই। কিন্তু এই অপরিকল্পিত এসআইআর ঠিক নয়। কেন তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা হল?’’ একই সুর শোনা গেল মমতার কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হচ্ছে তাতে অসুবিধা নেই, কিন্তু অসমে হচ্ছে না কেন? সেখানেও তো ভোট রয়েছে।’’
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল কী হবে? মমতার জবাব, ‘‘আমি রাজনৈতিক জ্যোতিষী নই। তবে আমার মনে হয় আরও বেশি আসনে জিতব।’’
এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূলের ‘রণকৌশল’ কী হবে? মমতার জবাব, ‘‘আমরা এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব।’’ তৃণমূলনেত্রীর কথায়, ‘‘নাম বাদ গেলে প্রভাব তো পড়বেই। তবে তা নিয়ে লড়াই হবে। আমাদের কী রণকৌশল হবে, তা পরে জানানো হবে।’’
মমতার প্রশ্ন, ‘‘বাংলাকে আলাদা করে টার্গেট করা হচ্ছে।’’
মমতার দাবি, ‘‘বাংলা বললেই বাংলাদেশি বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে।’’
মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের তথ্য চুরি করছে। দলীয় নেতাদের জেলে ভরে দিচ্ছে।
মমতা বলেন, ‘‘আমরা এখন সব দরজায় কড়া নাড়ছি। সংবাদমাধ্যমও গণতন্ত্রের একটা স্তম্ভ। এসআইআরে আক্রান্তদের নিয়ে এসেছি। আপনারাই দেখুন তাঁদের অবস্থা।’’
মমতা বলেন, ‘‘অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামীর মতো ব্যক্তিত্বকে এসআইআর নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন। ভাবতে পারেন!’’
দিল্লি থেকে বিজেপি এবং কমিশনকে একযোগে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন মমতা। তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘‘সাহস থাকলে রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক ভাবে লড়াই করুন।’’
মমতার কথায়, ‘‘ভবানীপুরে ৪০ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির বিধানসভা কেন্দ্রে কম নাম বাদ যাচ্ছে। কিন্তু তৃণমূলের বিধানসভা কেন্দ্রে ৮০ হাজার, এক লাখের মতো নাম বাদ দিতে চাইছে কমিশন।’’
বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠকে সীমা খন্নার প্রসঙ্গ তুললেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, সীমা খন্না এআই ব্যবহার করে নাম বাদ দিচ্ছেন! সীমা কে? মমতার দাবি, বিজেপির কর্মী সীমা। তাঁকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে কমিশন।
সাংবাদিক বৈঠকের শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মমতা। দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এসআইআর করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
মমতা বলেন, ‘‘দিল্লি সংবাদমাধ্যমের তো জানার কথা নয়, বাংলায় কী ঘটছে!’’
‘এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত’দের হাতে প্ল্যাকার্ড। এসআইআর বিরোধী স্লোগান লেখা তাতে।