শনিবার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — নিজস্ব চিত্র।
সোনারপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোল পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও পৌঁছে গিয়েছেন ঘটনাস্থলে।
সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়ি থেকে অভিষেক বলেন, “আমার মাথা দু’টুকরো হয়ে যেত আজকে। আমার সঙ্গে দু’তিনজন মহিলা সহকর্মী এসেছেন। তাঁদের লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এটা বাঙালির সংস্কৃতি? আমার দলের একজন কর্মী মারা গিয়েছে। আমি সেই বাড়িতে দেখা করতে আসতে পারি না? আমার চোখে সাত বার অস্ত্রোপচার হয়েছে। ইট-পাটকেল ছুড়েছে। চশমার অবস্থা দেখুন। বিজেপি যদি এর সঙ্গে জড়িত না থাকে, তা হলে বিজেপি পদক্ষেপ করছে না কেন? আমি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাই কোর্টেও যাব। সুপ্রিম কোর্টেও যাব।”
সোনারপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে ইতিমধ্যে মুখ খুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সকলকে হিংসা বর্জন করার জন্য আহ্বান জানান তিনি। শমীক বলেন, “পুলিশ কেন নেই, সেটা তো আমি বলতে পারি না। আমি তো দলের প্রতিনিধি। সেটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বলতে পারবে।” অতীতে শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন উত্তরবঙ্গে তাঁকে গাড়িতে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শমীক আরও বলেন, “তৃণমূল আমাদের কর্মীদের সঙ্গে যে অত্যাচার করেছে, আমরা সংযত ছিলাম বলেই আজ তৃণমূল অক্ষত আছে।” তৃণমূল সরকারের জমানার বেশ কিছু ‘উদাহরণ’ও তুলে ধরেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
জনতার প্রবল বিক্ষোভ এবং চড়-ঘুষি, ডিম, জুতোর মাঝেই সোনারপুরে দলীয় কর্মীর বাড়িতে পৌঁছোন অভিষেক। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘ওরা আমায় মারতে চায়! মেরে দিক! আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি হাই কোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। (নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির) দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। পুলিশের কেউ নেই এখানে। আমি এসপি এবং আইসি-কে জানাতে বলেছি। এখনও কোনও বাহিনী আসেনি। ’’
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “উনি (অভিষেক) শত শত পুলিশের প্রহরায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন, কোন বাপ আছে দেখে নেবেন। সেটাও যেমন গণতন্ত্রে উচিত নয়, আজকের ঘটনাও কাম্য নয়। তবে বিজেপি-আরএসএস চাইবে নানা কৌশলে তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় রেখে দিতে। এটা তেমন কৌশল হলেও হয়ে থাকতে পারে।”
সোনারপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা ও অসভ্যতার তীব্র প্রতিবাদ করছি। নিরাপত্তা তুলে নিয়ে হামলার জের আমরা রাজীব গান্ধীর সময়ে দেখেছি। আবার একই প্রবণতা। এটা হল কী করে? পুলিশ প্রশাসন কী করছিল? কেন অভিষেককে ঘিরে এই তাণ্ডব এতক্ষণ চলতে দেওয়া হল?”
অভিষেক আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েই সোনারপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। যখন এই ঘটনা ঘটছিল তখন কালীঘাটেই ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁরা সোনারপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।
ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যেতে গিয়ে আক্রান্ত হন তিনি। তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় অভিষেকের মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে।