Lok Sabha Election 2019

এক জেলায় তিন কেন্দ্র নিয়ে জল্পনা

কোচবিহার লোকসভায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূলের রেণুকা সিংহ।

Advertisement

অরিন্দম সাহা

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০১৯ ০৪:২০
Share:

—ফাইল চিত্র।

ভোট গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে কোচবিহার জেলায় তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের ফল নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

Advertisement

কোচবিহার লোকসভার পাশাপাশি বাকি যে দুটি কেন্দ্রের ফল নিয়ে জেলায় ওই জল্পনা রয়েছে সেই কেন্দ্র দুটি হল আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি। কারণ কোচবিহার জেলার ৯টি বিধানসভা এলাকার মধ্যে ১টি করে বিধানসভা ওই দুটি লোকসভার আওতায় রয়েছে।

কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ বিধানসভা রয়েছে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রের মধ্যে। তুফানগঞ্জ বিধানসভা রয়েছে আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের আওতাধীন। কোচবিহার উত্তর, দক্ষিণ, দিনহাটা, সিতাই, শীতলখুচি, মাথাভাঙা ও নাটাবাড়ি বিধানসভা কোচবিহার লোকসভার মধ্যে। তাই তিনটি লোকসভার ফল নিয়েই আগ্রহ রয়েছে জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে। জেলার রাজনৈতিক মহলেও তিনটি লোকসভার ফল নিয়ে হিসেব নিকেশ হচ্ছে। জেলা রাজনীতিতে যুযুধান সব শিবিরেরই দাবি, এ বার ভোটের ফলাফলে তাঁরাই জয়ের হাসি হাসবেন।

Advertisement

দলীয় সূত্রেই জানা গিয়েছে, কোচবিহার লোকসভায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূলের রেণুকা সিংহ। দু’বছরের মাথায় জয়ী সাংসদের প্রয়াণে ফের উপনির্বাচন হয়। তাতে ব্যবধান বাড়িয়ে আসনটি ধরে রাখে তৃণমূল। ২০১৪-র নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি আসনেও জয়ী হন যথাক্রমে দশরথ তিরকে ও বিজয় বর্মণ। দু’জনেই তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

এবারে ওই আসন গুলির ফলাফল কী হয় তা নিয়েই জেলার রাজনৈতিক মহলে চর্চা বাড়ছে। সব শিবিরেরই দাবি, তাঁরাই জিতবেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের অনুমান, তিনটি আসনেই মূল লড়াই হচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপির।

তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের উন্নয়নের নিরিখে ভোট হয়েছে। তিনটি কেন্দ্রেই দলের প্রার্থীরা জিতবেন। দলের এক নেতার দাবি, ‘‘দলীয় স্তরে বুথ ভিত্তিক রিপোর্ট পর্যালোচনা হয়েছে। তাতেই কোচবিহারে পরেশ অধিকারী, আলিপুরদুয়ারে দশরথ তিরকে ও জলপাইগুড়িতে বিজয় বর্মণের জয় নিয়ে নিশ্চিত।’’ উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা তৃণমূলের কোচবিহারের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “ওই তিনটি আসনেই তৃণমূল প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। উত্তরবঙ্গের বাকি সব আসনেও জোড়াফুল ফুটবে। গণনার অপেক্ষা।”

বিজেপির পাল্টা দাবি, কোচবিহারে নিশীথ প্রামাণিক, আলিপুরদুয়ারে জন বার্লা, জলপাইগুড়িতে জয়ন্ত রায় জিতছেন। উত্তরের অন্যত্রও পদ্ম ফুটবে। দলের কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতী রাভা বলেন, “২৩ মে-তে প্রমাণ হবে আমরা জিতছি।” বিজেপি’র জলপাইগুড়ির পর্যবেক্ষক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, “জলপাইগুড়ি আসন তো জিতবই, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ বিধানসভা থেকেও আমাদের প্রার্থী অন্তত ১৫ হাজার লিড নেবেন।” আলিপুরদুয়ারের বিজেপি পর্যবেক্ষক নিখিলরঞ্জন দে বলেন, “আলিপুরদুয়ারে পদ্ম ফুটছেই। এটা দুশো ভাগ নিশ্চিত। ওই কেন্দ্রের আওতাধীন কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ও জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা বিধানসভাতেও আমরাই এগিয়ে থাকব।”

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “তৃণমূলই জিতবে। ২৩ মে-তেই বিজেপির ওই দাবিদারদের কথার অবাস্তবতা প্রমাণ হবে।” আশাবাদী কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট শিবির। দু’শিবির সূত্রের বক্তব্য, এ বারে অনেক হিসেব পাল্টে যাবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement