TMC Legislative Party

ভাঙন-শঙ্কার মধ্যে মমতার ধর্না নিয়েও অনিশ্চয়তা! পরিস্থিতি নিয়ে শলাপরামর্শে কালীঘাটের বাড়িতে মদন-কুণাল-দোলা

রবিবার কালীঘাটের বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ফাটল ধরেছে। ওই দিন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। তার পর সই জাল-কাণ্ড নিয়েও বিড়ম্বনা বাড়ে রাজ্যের পূর্বতন শাসকদলের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১৩:০১
Share:

(বাঁ দিক থেকে) কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, মদন মিত্র এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তৃণমূলে ভাঙনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। পরিস্থিতি এমনই যে, মঙ্গলবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বনির্ধারিত ধর্না কর্মসূচি আদৌ হবে কি না, তা নিয়েই অনিয়শ্চতা তৈরি হয়েছে। এই আবহে মঙ্গলবার কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন দলের দুই বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্র। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনও। এই বৈঠকে ধর্না কর্মসূচি নিয়ে তো বটেই, দলের ভাঙন রোখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

দলের ধর্না কর্মসূচি প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাত সাড়ে ১২টায় ইমেল পাঠিয়ে পুলিশ বলেছে ওয়াই চ্যানেলে কিছু করার জন্য অনুমতি নিতে হবে। এটা কি সম্ভব? তাহলে আগে বলল না কেন? এটা তো বিরোধী স্বরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।” ভোটের পর মমতার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে অনিয়শ্চতার আবহেই ওয়াই চ্যানেলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের সহ সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পুলিশ সূত্রে খবর, ওয়াই চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচির জন্য তৃণমূলকে দুপুর ২টো থেকে ৫টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

রবিবার কালীঘাটের বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ফাটল ধরেছে। ওই দিন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। তার পর সই জাল-কাণ্ড নিয়েও বিড়ম্বনা বাড়ে রাজ্যের পূর্বতন শাসকদলের। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিধায়কদের সই নকল করার বিষয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে অভিযোগ জানান তৃণমূলের দুই অধুনা বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

Advertisement

ওয়াই চ্যানেলে বসে রয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। —নিজস্ব চিত্র।

ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করে ‘বেসুরো’ বিধায়কদের কাছে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছিল তৃণমূল। তার পরেও অবশ্য ‘স্বস্তিতে’ নেই দল। কারণ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে রবিবার রাত থেকেই খবর আসতে শুরু করে যে, রবিবারের বৈঠকে যোগ দেওয়া অনেক বিধায়কও বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মঙ্গলবার দুপুরে কালীঘাটে মমতার সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে এই প্রসঙ্গে দলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল বলেন, “যাঁরা এটা করছেন, তাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। একমাসও হয়নি তাঁরা মমতাদির নাম, ছবি ব্যবহার করে জিতেছেন। দল আজ বিরোধী আসনে। এখন মনে হচ্ছে দল খারাপ ছিল?”

দলের বিদ্রোহ সামাল দিতে ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছেন তৃণমূলের এমন কয়েক জন নেতা, যাঁরা মমতার অতি-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। বিদ্রোহের পথ থেকে সরিয়ে আনতে বিভিন্ন বিধায়কের কাছে ফোন ঘোরাচ্ছেন তাঁরা। ফোনে মমতা-আবেগে শান দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে তা কতটা কার্যকরী হবে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ তৃণমূল মনে করছে, দলে ভাঙন হচ্ছেই। তা পুরোপুরি রোখা যাবে না। তবে বিদ্রোহী শিবিরে আদৌ কত জন বিধায়ক রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয় তৃণমূলের কাছে।

তৃণমূলের উদ্বেগ বাড়িয়েছেন দলের বেশ কয়েক জন সংখ্যালঘু বিধায়ক। তাঁরা বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর। যেমন দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা লাগোয়া একটি কেন্দ্রের বিধায়ক একই সঙ্গে কংগ্রেস এবং ঋতব্রতদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন বলে শোনা যাচ্ছে। রবিবার কালীঘাটের বৈঠকে যোগ দেওয়া মমতা-ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বিধায়কও ঋতব্রতদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করছেন বলে খবর। তৃণমূলের আশঙ্কা, মঙ্গলবারই বেশ কয়েক জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত প্রস্তাব বিধানসভার স্পিকারের হাতে তুলে দিতে পারেন ঋতব্রতেরা। তবে স্পিকার এখন শহরে নেই। তিনি দিল্লি থেকে বুধবার ফিরবেন। তার পর ঋতব্রতেরা কোনও পদক্ষেপ করেন কি না, সে দিকেই নজর রাখছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

সোমবার রাতে কিড স্ট্রিটের এমএলএ হস্টেলে ঋতব্রত এবং‌ সন্দীপনদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক শিউলি সাহা এবং জাভেদ খান। এই প্রসঙ্গে জাভেদের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে শিউলি বলেন, “আমি এমএলএ হোস্টেলে ঘর দেখতে গিয়েছিলাম। ঋতব্রত এবং সন্দীপনের সঙ্গে দেখা হয়৷ তারপর চা খেয়েছি।” দু’জনকে বহিষ্কার নিয়ে শিউলি বলেন, “বিধায়ক হিসাবে তাঁরা বহিষ্কৃত নন।”

(সবিস্তার আসছে)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement