Mamata Banerjee

Mamata Banerjee: তেল ছেড়ে কেন মদে কর ছাঁটাই! বিতর্ক

ভাঁড়ারের যা হাল, তাতে এখনই নতুন করে পেট্রল, ডিজ়েলে কর (ভ্যাট) কমানোর অবস্থায় নেই রাজ্য।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২১ ০৭:০৪
Share:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি পিটিআই।

ভাঁড়ারের যা হাল, তাতে এখনই নতুন করে পেট্রল, ডিজ়েলে কর (ভ্যাট) কমানোর অবস্থায় নেই রাজ্য। সম্প্রতি বিরোধীদের আক্রমণের মুখে এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তার পরে রাজ্যের কর ছাঁটাইয়ের ‘দৌলতে’ মদ সস্তা হওয়ার পরে মাথাচাড়া দিয়েছে বিতর্ক। বিরোধী শিবির থেকে সমাজ মাধ্যম— সর্বত্র প্রশ্ন, তেলে কর কমানোর সুবিধা দেওয়া না গেলে, তা মদের বরাতে জুটল কী ভাবে? এ বিষয়ে দু’য়ের মধ্যে অগ্রাধিকার জ্বালানি তেলেরই পাওয়া উচিত নয় কি? বিশেষত ডিজ়েলের চড়া দরের কারণে যেখানে লাফিয়ে দাম বাড়ছে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের।

Advertisement

রাজ্যের অবশ্য দাবি, মদের দাম কমলে, তার বিক্রি বাড়বে। অনেকে বেছে নেবেন তুলনায় দামি মদ। তাতে রাজ্যের রোজগার বাড়বে। অতিমারির সময়ে কোষাগারের হাল ফেরাতে তাতে সুবিধা হবে কিছুটা। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, করোনা-কালে তেলে শুল্ক ও সেস বসিয়ে প্রায় চার লক্ষ কোটি টাকা ঘরে তুলেছে কেন্দ্র। সেসের ভাগ রাজ্য পায় না। আর মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার সময়ে প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজ়েলে উৎপাদন শুল্ক যেখানে যথাক্রমে ৯.৪৮ ও ৩.৫৬ টাকা ছিল, সেখানে এখন তা ২৭.৯০ ও ২১.৮০ টাকা। অথচ দীপাবলির সময়ে নামমাত্র শুল্ক (প্রতি লিটার পেট্রল, ডিজ়েলে যথাক্রমে ৫ এবং ১০ টাকা) কমিয়ে এখন বাকি দাম কমানোর দায় রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে তারা।

রাজ্যের কর ছাঁটাইয়ের ফলে মদের দাম কমার বিষয়টি সামনে এসেছে মঙ্গলবারই। দেখা যাচ্ছে, দেশে তৈরি বিদেশি মদের (ইন্ডিয়ান মেড ফরেন লিকার) দাম ২০%-২৫% আর আমদানি করা বিদেশি মদের দাম ৩০%-৩৫% কমছে। আবগারি দফতরের দাবি, এতে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এমনকি, দিল্লির থেকেও কোনও কোনও মদের দাম এ রাজ্যে কম হবে। বিরোধীদের প্রশ্ন, এতখানি কর কমানোর ফলে যে পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ কম হবে, তা সামলানোর ধাক্কা যদি রাজ্যের থাকে, তবে জ্বালানি তেলে ভ্যাট ছাঁটাই করা হল না কেন?

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, রাজ্য নিজের ভাগ থেকে তেলে প্রতি লিটারে এক টাকা কর ছেড়ে দেওয়ায় ইতিমধ্যেই দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি স্বীকার করেছে রাজ্য। কিন্তু কেন্দ্র সে কথা মুখে আনে না। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের কাছে যে বিপুল টাকা বকেয়া, তা পেলে তেলে করছাড় দিতেও অসুবিধা হত না নবান্নের। এক কর্তার কথায়, ‘‘গত ১০ বছরে সেস এবং সারচার্জ বাবদ কেন্দ্রের আয় ৫৭ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪.৫১ লক্ষ কোটি টাকা। তাই সেস এবং সারচার্জ ‘ডিভিসিব্ল পুলের’ আওতায় আনা হলে, রাজ্যগুলির মধ্যে সেই অর্থের ভাগাভাগি হবে। ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে পারবে রাজ্যগুলি।’’

একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, অন্য রাজ্যগুলির সঙ্গে দামের সমতা বজায় রাখতে এবং অবৈধ ও জাল মদের জোগান ঠেকাতে আবগারি কর কমানো হচ্ছে। দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, গত বছর ৫-৬ লক্ষ লিটার জাল মদ উদ্ধার হয়েছিল। গত এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে ১.৬ লক্ষ লিটার অবৈধ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এতে রাজস্বের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনই মদের গুণমান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উত্তর-পূর্ব বাদে বাকি পড়শি রাজ্যগুলির সঙ্গে দামের সামঞ্জস্য থাকলে, এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। আবগারি কমিশনার উমাশঙ্কর এস বুধবার বলেন, ‘‘জাল বা অবৈধ মদের জোগান বাড়লে, তা জনস্বাস্থ্যের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত।’’ এতে রাজস্বের ক্ষতি হবে না বলেই তাঁর আশা।

যুক্তি হিসেবে দফতর সূত্রের তথ্য, ২০১৯-২০ সালে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের তুলনায় মদ বাবদ রাজস্ব প্রায় ১০% বেড়েছে। গত বছর ওই খাতে আয় ছিল, ১২,৩৭১ কোটি টাকা। চলতি আর্থিক বছরে এপ্রিল-অক্টোবরেই তা ৫,৪৭০ কোটি। এক কর্তার কথায়, ‘‘লকডাউন, ভোট এবং অন্যান্য কারণে অনেক দিন মদের বিক্রি বন্ধ বা কম ছিল। তাই আগামী দিনে রাজস্ব আরও খানিকটা বাড়বে।’’

কিন্তু রাজ্যের মতে, তেলে কর আদায়ের ছবি এর উল্টো। অর্থ দফতরের কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ২০২০-২১ সালে তেলে ভ্যাট আদায় হয়েছে প্রায় ৮,২০০ কোটি টাকা। অথচ বাজেটে তার পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৮,৬০০ কোটি। তার উপরে কেন্দ্র তেলের উপরে কর কিছুটা কমানোয় আনুপাতিক হারে রাজ্যের আয়ও কমেছে। ফলে, শেষমেশ লক্ষ্য ও আদায়ের ফাঁক আরও চওড়া হওয়ার সম্ভাবনা। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের আশা, এই লোকসানের একাংশ পুষিয়ে দেবে মদ থেকে ‘বাড়তি’ আয়।

এরই মধ্যে সরকারের পরিকল্পনা, মদ থেকে রোজগার বাড়াতে বিমানবন্দরেও তার দোকান খুলবে রাজ্য বেভারেজ়েস কর্পোরেশন। কলকাতা, বাগডোগরা ও অন্ডাল বিমানবন্দরে মদের দোকান খোলা হবে। সরকারি হাতেই থাকবে তার পরিচালনা। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রাজ্য।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement