(বাঁ দিকে) অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
এনসিপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকবার্তার পাশাপাশি কী ভাবে বারামতীতে অজিতের বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বুধবার দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল মমতার। সেই সফর আপাতত স্থগিত রেখেছেন বলে জানিয়েছে নবান্ন।
বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে অজিতের চার্টার্ড বিমান। ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে যায়। মৃত্যু হয় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর পরই নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে শোকপ্রকাশ করেন মমতা। তিনি জানান, অজিতের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর ভাবে মর্মাহত। শেষে তিনি লেখেন, ‘‘বিমান দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত।’’ একই সঙ্গে শরদ পওয়ার-সহ গোটা পওয়ার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে হুগলির সিঙ্গুরে কর্মসূচি রয়েছে মমতার। ঠিক ছিল, সিঙ্গুরের সভার পরই দিল্লি উড়ে যাবেন তিনি। এসআইআর নিয়ে রাজ্যে যা চলছে, তাকে সর্বভারতীয় স্তরে তুলে ধরাই ছিল মমতার দিল্লি সফরের উদ্দেশ্য। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এসআইআর সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে একাধিক চিঠিও লেখেন। সূত্রের খবর, কোনও চিঠিরই জবাব আসেনি মমতার কাছে। তার পরেই তাঁর দিল্লি সফরের কথা জানা যায়। পশ্চিমবাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ৪ নভেম্বর। ওই দিনই কলকাতার রাস্তায় মিছিলে হেঁটেছিলেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে মমতা, অভিষেক ছাড়াও তৃণমূল দলগত ভাবে এসআইআরের বিরোধিতা করেছে। দিল্লি গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখাও করেন অভিষেক।
এসআইআর আবহে রাজ্যে অনেকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে অনেকের পরিবারই দাবি করেছেন, এসআইআর আতঙ্ক প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তাদের প্রিয়জনের। শুধু সাধারণ মানুষ নন, কয়েক জন বুথ স্তরের আধিকারিকের (বিএলও) মৃত্যু হয়। কেউ আত্মহত্যা করেন, কারও আবার মৃত্যু হয় অসুস্থতার কারণে এমনও অভিযোগ উঠেছে। সব ক্ষেত্রেই এসআইআর আতঙ্ককে দায়ী করেন পরিবারের লোকেরা। সূত্রের খবর, দিল্লি সফরে মমতার সঙ্গে থাকার কথা ছিল ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃতদের পরিবারের অনেকের।
মমতার অভিযোগ, কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু করেছে কমিশন। তৃণমূল অভিযোগ তোলে, কমিশন খসড়া ভোটার তালিকায় এমন অনেককে ‘মৃত’ বলে দেখানো হয়েছে, যাঁরা আদতে বেঁচে রয়েছে। সম্প্রতি জেলায় জেলায় সভার ‘র্যাম্পে’ ‘ভূতেদের’ হাঁটিয়েছিলেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, খসড়া তালিকায় তাঁদের প্রত্যেককে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। সূত্রের খবর, সেই সব ভোটারেরাও মমতার দিল্লি সফরের সঙ্গী হওয়ার কথা ছিল।