Mamata Banerjee

২১ জুলাইয়ের দখল নিয়েও দ্বন্দ্ব দুই তৃণমূলে! ধর্মতলায় সভা করতে চেয়ে পুলিশকে চিঠি কালীঘাট এবং ঋতব্রত শিবিরের

গত বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পাঁচ জন কর্মী থাকলেও ২১ জুলাই সভা করবেন তিনি। এ বার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের সভা করার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাইল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ২০:৩০
Share:

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস নিয়েও দুই ‘তৃণমূল’-এর দ্বন্দ্ব। আসল ‘তৃণমূল’ কে, তা প্রমাণ করতে দু’পক্ষই মরিয়া। দু’তরফই কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে।

Advertisement

দল যখন ভেঙে টুকরো টুকরো, সেই অবস্থায় এই বছর আদৌ ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালন হবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল তৃণমূলের অন্দরেই। তবে বৃহস্পতিবার সেই সংশয় দূর করে ধর্মতলায় অন্যান্য বছরের জায়গাতেই জমায়েত করার নির্দেশ দেন মমতা। রাজ্যের বিরোধী দল থাকাকালীন সময় থেকেই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালন করা তৃণমূলের রেওয়াজ। গত বৃহস্পতিবার কুণাল ঘোষের উদ্যোগে উত্তর কলকাতা তৃণমূল কংগ্রেস রামমোহন হলে এক কর্মসূচির আয়োজন করে। সেই সভায় কুণালের ফোন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য লাউড স্পিকারে শোনানো হয়। সেখানেই মমতা বলেন, ‘‘২১ জুলাই আশা করি অনুমতি পাব। আমরা একটা দিনই মিটিং করি। সে দিন বিস্তারিত বলব। পাঁচ জন কর্মী থাকলেও সেই মিটিংয়ে থাকব। আপনারা ওই দিন সমবেত হোন।’’

তার দু’দিন পরেই কলকাতা পুলিশের কাছে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার অনুমতি চাইল কালীঘাট পন্থী তৃণমূল। ওই শিবিরের নেতাদের দাবি, বৃহস্পতিবারের ফোন বার্তায় গোটা রাজ্যের তৃণমূলকেই কার্যত বার্তা দিতে চেয়েছেন দলনেত্রী। তিনি যে ফের রাস্তায় নামছেন এবং একুশের মঞ্চ থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে শামিল হবেন, দিতে চেয়েছেন সেই বার্তাও। শনিবার বিকেলে কালীঘাটে মমতার বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও জানান যে তাঁরা পুলিশের অনুমতি চেয়েছেন। পাশাপাশি মেনে নেন, আদালত অবমাননার একটি বিষয় রয়েছে। মহুয়ার কথায়, ‘‘পুলিশ মঞ্চ করার অনুমতি না দিলে রাস্তায় করব। গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা করবেন।’’ উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের একটি মামলার জেরে ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

Advertisement

কালীঘাটে দাঁড়িয়ে যখন মহুয়া ২১ জুলাইয়ের সভার কথা বলছেন, ঠিক তখনই, পূর্ব কলকাতার একটি ক্লাবে বৈঠকে ব্যস্ত ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলের নেতারা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-শিবিরের ডাকে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের বৈঠক। সেই বৈঠকে হাজির সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলরদের অনেকেই। মমতার হাতে নিযুক্ত দলের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে সৌরভ বসুকেও দেখা যায় ঋতব্রত-শিবিরের বৈঠকে। বৈঠকে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিতরে সন্দীপন সাহা বলেন, ‘‘আমরাই আসল তৃণমূল। আমরা আছি। আমরাই থাকব। আপনারা আমাদের উপর আস্থা রাখুন।’’ একই সঙ্গে ওই সূত্রের দাবি, আখরুজ্জামান বলেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে যেমন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে সাহায্য করেছিলেন, তেমনি একটা শুভ শক্তি আমাদের সাহায্য করছে।’’ পরে আখরুজ্জামান আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেন, ‘‘এত দিন নায়ক-নায়িকাদের ভিড়ে শহিদ পরিবারগুলো মর্যাদা পায়নি। ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের একটা আবেগের বিষয়। এ বার শহিদ পরিবারকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাব। যাঁরা আমাদের সঙ্গে থাকতে চায়, থাকতে পারেন। আমাদের ঐতিহ্যবাহী ২১ জুলাই আমরা ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই করব। প্রশাসন অনুমতি না দিলে তখন অন্য জায়গা নিয়ে ভাবা যাবে।’’

তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‘তাঁরা ২১ জুলাই পালন করতেই পারেন। তবে সরকারি নিয়ম মেনে। রাস্তা বন্ধ করে লাউড স্পিকার বাজিয়ে অন্যের অসুবিধা করে নয়।’’ অগ্নিমিত্রা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওয়াই চ্যানেলে বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি দিয়েছেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement